Showing posts with label গল্প / প্রবন্ধ. Show all posts
Showing posts with label গল্প / প্রবন্ধ. Show all posts

Tuesday, September 6, 2022

যে পাপীর মাংস আমার টুকরো টুকরো করার ইচ্ছা

এখন শুধুমাত্র তাহার মস্তক খানা কর্তন বাকী। গ্রীবা হইতে চরণ অব্দি বক্ষ, উদর, হস্ত, হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, কলিজা সহ দেহের প্রতিটা অঙ্গানুই একটা একটা করিয়া কর্তন সম্পন্ন হইলো। ইদে পশু জবেহ করিবার সেই ধাঁরালো ছুরিখানা দিয়াই এই ভয়ানক - দূঃসাহসিক কান্ড খানা ঘটিয়া ফেলিলো মাত্র ২২ বৎসরের এক তরুন বালক!

অতঃপর? 

মানুষটার টুকরো টুকরো কর্তিত অঙ্গানুগুলির রক্তের প্রবাহ বহিতেছে মৃত্তিকা জুড়ে; আর সেখান হইতে বালকটা স্ব-হস্ত দ্বারা খানিকটা রক্ত তুলিয়া ঐ অবশিষ্ট মস্তকখানির মুখগহব্বরে ঢালিয়া দিলো। আর ক্রোধান্বিত চক্ষু নিয়া সশব্দে কহিতে লাগিলো - 

"তোর এই নষ্ট মুখ খানা দিয়া অগণিত নীরিহ মানবকে কতই না করিয়াছো গালমন্দ; ইহা আমি আর হইতে দিবো না। অর্থের তীব্র লোভে মনুষ্যত্ব ভুলিয়া মুখের নোংরা ব্যবহার প্রদর্শন করিয়া, যে রক্ত-মাংস গড়িয়াছিলি, এখন সেই নিজের রক্ত নিজেই খা।"

এইবারে, বালকটা একখানা গর্ত করিয়া লেলিহান আগুনের মধ্যে উনার দেহের সবগুলি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একটা একটা করিয়া ফেলিতে লাগিলো; আর মনের গহীনে তীব্র প্রতিশোধের আগুনকে কিঞ্চিৎ শান্ত করিবার চেষ্টা করিলো। এখন শুধু অবশিষ্ট রহিয়াছে মস্তকখানি আগুনে ফেলিবার। 

এরই মধ্যে এক পথচারীর নিকট বালকের এই ভয়ানক কর্মকাণ্ড দৃষ্টিগোচর হইলো। তৎক্ষণাৎ তিনি ঘটনাস্থলে আসিয়া নির্বাক বিস্ময়ে তরুণ-কে এই নির্মম কর্ম ঘটানোর হেতু জিজ্ঞাসা করিলেন। 

- "হে বালক, কী ত্রুটি ছিলো উনার? উনি কি কাহারো প্রাণনাশ করিয়াছে?"

- "না।"

- "তাহলে উনি কি কাউকে ধর্ষণ করিয়াছে?"

- "না।"

"তাহলে কেন তুমি এই নির্মম কর্মখানা করিতেছো?"

তরুণ বালক মাত্র কয়েকখানা বাক্যে সংক্ষেপে উত্তর সমাপ্তি করিবার চেষ্টা করিলো।

কহিলো, 

"আপনার জিজ্ঞাসিত উপরোক্ত কোনো অন্যায়কারীর বিরুদ্ধেই আমি এত্তবড় প্রতিশোধের স্বাদ নিতাম না। উনার অন্যায়টা চলমান সমাজ ব্যবস্থায় আপনাদের নিকট স্বাভাবিক বোধ হইলেও, নীরিহদের উপর ইহার নির্মম প্রভাব আমি প্রত্যক্ষরুপে অনুভব করিতে পেরেছি।"

- "তো, বলো হে বালক, উনার অন্যায় খানা কী?"

- "আচ্ছা, বলিতেছি। উনার গুরুতর ৩ খানা অন্যায় ছিলো। যাহার প্রধাণ উৎস ছিলো 'সুদ'।"

১. "উনি ব্যক্তি সুদের ব্যবসা করিতেন।"

২. "সুদের দ্বারা তিল তিল করিয়া আসলের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরও আসল এর দাবি ছাড়িতেন না। বরং নীরিহ'র স্ব-পরিবারকে ভয়ানক বিপদে ফেলিবার নানা ষড়যন্ত্র রচনা করিতেন।"

৩. "ইনি শুধুমাত্র অর্থের স্বার্থে মানবকে যেকোনো ধরণের মিথ্যা অপবাদ প্রদানে কিঞ্চিৎ দ্বিধা করিতেন না।"

তরুন বালক দ্রুত উত্তর সমাপ্তি করিয়া আবারও উক্ত কর্মকাণ্ড আরম্ভ করিয়া দিলো। কারন এখন অবশিষ্ট কর্তিত মস্তকখানি আগুনে ফেলিতে হইবে...

ইতোমধ্যেই, হঠাৎ করিয়া বালকটির কর্ণে ভাসিয়া উঠিলো, "এই ছেলে, তাড়াতাড়ি উঠ, এতো ঘুমাও কেন? তুই নাকি আজ কোথায় যাবি?!"

চক্ষু খুলিয়া অতঃপর বালকটার বোধগম্য হইলো, এতক্ষণ ধরিয়া তাহার ভয়ানক কর্মকান্ডটি নিদ্রারত স্বপ্ন বৈকি আর কিছুই ছিলো না। কিন্তু বালকটা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে হতাশার তীব্র নিঃশ্বাস ফেলিয়া কহিতে লাগিলো-

"আহ! কেন ইহা বাস্তব না হইয়া স্বপ্ন হইলো? শুধুমাত্র আমার ধর্মগ্রন্থে যদি এইরুপ প্রতিশোধ নেয়ার বিধান থাকিতো, তাহলে আমি যেকোনো মূল্যে পশুতুল্য উক্ত অমানবদের শাস্তি প্রদানে এই নির্মম পেশাটি-ই বাছিয়া নিতাম। তাহাতে আমি কাউকেই পরোয়া করিতাম না।"

পরিশেষে তরুণ বালক কোনো উপায়ন্তর না পাইয়া তাহার সৃষ্টিকর্তার আদালতেই এই বিচার সমর্পণ করিলো...

Share:

Tuesday, December 31, 2013

'বন্দী' - স্কুলজীবনে যে গল্পটি লিখছিলাম

কী অপরাধ আমার? কী দোষ করেছি আমি?

তোমাদেরকে মহান সৃষ্টিকর্তা এ ভূবনের শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে প্রেরণ করেছেন। গুণাবলীর দিক থেকে তোমরা অকল্পনীয় উচ্চে। তোমাদের কাছে আমি অতি নিম্নতম প্রাণী মাত্র। তুলনার দিক থেকে বলতে পারি, তুমি যদি হও মহাসাগর, তবে আমি বিন্দু-মাত্র জল; যদি হও মহাবিশ্ব, তবে আমি কিঞ্চিৎ তূল্য ভুমি। এ তুলনা শুধু সৃষ্টির দিক থেকেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং মান-মর্যাদা, জ্ঞান-বুদ্ধি, সৌন্দর্য-ছুরোত সর্বোত্র।
কিন্তু কিভাবে মানবো এত সব গুণাবলী? তোমরা কি তোমাদের সৃষ্টিকর্তার এ উদ্দেশ্যকে মূল্য দিয়েছো? তা-তো দিলে না। তার চাক্ষুস প্রমাণ মিলবে আমার এই তুচ্ছ জীবনটাকে দিয়ে।
স্রষ্টা আমাকে খুব শখ করে 'পক্ষী' নামে এই মনোরম ভুবনে প্রেরণ করেছেন; যাতে আমি এ সুন্দর পৃথিবীতে পরিবার পরিজন নিয়ে মনের সুখে বিচরণ করতে পারি এবং স্রষ্টার দেয়া সৌন্দর্য ও নিজস্ব কিচিরমিচির ভাষাকে দিয়ে এ জগতকে মুখরিত করতে পারি।
যেদিন আমি ক্ষুদ্র 'ডিম' নামক জগতের মধ্যে ছিলাম তখন থেকেই আমার মনে সাড়া দিতে থাকে- আমি এক মনোরম ও আশ্চর্যময় জগতে পা দিতে যাচ্ছি। যখন 'ডিম' জগতটি ফাটলো তখন থেকেই মা আমাকে তার হৃদয়ের সব টুকু স্নেহ দিয়ে আদর-যত্ন করতে থাকেন। আমার পাখনা বড় হতে শুরু করে। একদিন দেখি আমি উড়তে পারতেছি। কিছুক্ষন উড়ে মনে হলো, আমি সবচেয়ে সৌভাগ্যবান। তারপর থেকে বন্ধুরা সবাই একসাথে গান-নাচ, ঠোকড়া-ঠুকরি, লাফা-লাফি, উড়া প্রতিযোগিতা আরও কতো-কী করতাম!
স্রষ্টা আমাকে যে মধুর কন্ঠ দিয়েছেন তা দিয়ে মনোরম সুরে গান করে বেড়াতাম। শীতকালে পরিবার পরিজন নিয়ে ভীনদেশে অতিথি হয়ে বেড়াতে যেতাম। সেখানে নতুন আশ্চর্যময় বৈচিত্র দেখে আরও উল্লাস করতাম।
তোমাদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশ, কাজী নজরুলরবীন্দ্রনাথের মতো মহৎ প্রাণের মানুষরা আমাদেরকে প্রাণভরে দেখতো। তাঁরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের সৌন্দর্য ও জীব-নিরাপত্তাকে তোমাদের মাঝে তুলে ধরতে চেষ্টা করতো। আমরা এরকম মানুষের কাছে চিরকাল ব্যপি ঋণি এবং আমৃত্যু তাদের সুনাম গেয়ে যাবো।

কদা আমরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুরা মিলে নতুন এক অঞ্চলে ভ্রমণে গেছিলাম। হঠাৎ প্রত্যক্ষ করলাম- বনের মধ্যে গাছের আড়ালে তোমাদের মতো দুজন জীব আমাদেরকে লক্ষ্য করতেছে। ভাবলাম তারা নিশ্চয়ই জগতের শ্রেষ্ঠ জীবদের নেতা 'হযরত মুহাম্মদ (সঃ)' নামক মহান ব্যক্তির দলভুক্ত হবেন। নিশ্চয়ই তারা আমাদেরকে তাঁর মতো হৃদয়বান চক্ষু দিয়ে দেখবেন। তাই আমরা অবুঝ হৃদয়ের জীবরা তাদের নিকটবর্তী একটা বৃক্ষে উড়ে গেলাম।
তারা আমাদের গুণাবলি গাওয়া তো দূরের কথা; বরং অকল্পনীয় আচরণ করে বসল। চক্ষুর অগোচরে 'বন্দুক' নামক লাঠিটি থেকে 'ঠাস' করে একটি বস্তু আমাদের দিকে ধেয়ে আসলো। কে জানে এ বস্তু আমাদের কাছে উপহার নয়, বরং মৃত্যু-সামগ্রী। কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই পড়ে গেলো আমার পরিবার-পরিজন ও বন্ধুরা। ভাবলাম আমার নিজের জীবনটা রক্ষা করা যায় কিনা। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমারও। রাক্ষস-তুল্য মানুষরা আমাকেও ধরে ফেললো। উড়ে যাবার কোনো উপায় পেলাম না।
পরের দিন দেখলাম তারা বাজার থেকে 'খাঁচা' নামক একটি লোহার জেলখানা নিয়ে আসল। শুনলাম আমাকে নাকি ঐ জেলখানার মধ্যে রেখে দিবে। ভাবলাম কী দোষ করেছি আমি? আমি কি তাদেরকে কোনো ক্ষতি করেছি? কী উপায় আমার - আমার ভাষা তোমরা বুঝো না। যদি বুঝতে তাহলে যা কিছু করে হোক তোমাদের নিষেধ করতাম ঐ জেলখানার মধ্যে রাখতে।

কে শুনে কার কথা? পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ও জল দিয়ে বন্দী করে রেখে দিলো আমাকে। তোমরা আমাকে নানা রকম পুষ্টিকর খাবার দিয়ে থাকো ঠিকই, কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও কি বুঝো না? মনকে বন্দী রেখে যতই আদর আপ্যায়ন কর না কেন তা আমার নিকট ফাঁকি মাত্র। সারাদিন গুঁটেমুটে হয়ে বসে থাকি আমি। যখন ক্ষিদে পেট চৌঁচির হয়ে যায়, তখন তোমাদের দেয়া খাবার সামান্যটুকু খাই। কিন্তু এতে শুধু আমার দেহটাকেই বাঁচাতে পারি, মনকে নয়। তোমরা আমাকে লোকালয়ে পরিচ্ছিন্ন ও সুন্দর জায়গায় রেখে দাও ঠিকই। লোকজন আমাকে দেখতে আসে। আমাকে নিয়ে আনন্দ-ফূর্তি করে। কিন্তু আনন্দ শুধু তোমাদেরই; আমার মতো হতভাগার আমৃত্যু আনন্দের নিকটবর্তী হওয়া চলবে না।
চলবেই বা কিভাবে? মৃত্যু না হলে তোমরা আমাকে 'খাঁচা' নামক জেলখানাটি থেকে বের হতেই তো দিবে না।
স্রষ্টা যদি আমাকে তোমাদেরকে বুঝানোর মতো ভাষা এক মুহুর্তের জন্যও দিতেন, তাহলে আমি তোমাদের পা ধরে হলেও বলতাম আমাকে মুক্তি দিতে। কিন্তু এটা তো তোমরা জানো- সকলকেই জীবন নাশ করতে হবে। কষ্ট তো শুধু আমার এই তুচ্ছ জীবন নামক জেলখানাটিতে। জেনে রেখো- তোমাদেরকেও একদিন এ ভূবন ত্যাগ করতে হবে। তোমাদের সামান্যতম আনন্দের খাঁচায় বন্দী করে আমার পুরো জীবনটাকে বিলীন করে দিও না।
তোমরা একবার হলেও আমার এই জীবনটাকে তোমাদের নিজের করে দেখো। তাহলে নিশ্চয়ই বুঝবে যে, এর চেয়ে কষ্টকর জীবন আর কী হতে পারে। তোমাদের মধ্যে অনেক অসাধু ব্যক্তি আছে, যারা আমাকে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে থাকে। কিন্তু তারা এতটুকুও ভেবে দেখেনি যে, তাদের সামান্যতম লাভের জন্য আমার পুরো জীবনটা বৃথা হয়ে যাচ্ছে। আমার পৃথিবীতে বেঁচে থাকাই মূল্যহীন হয়ে যাচ্ছে। আমি যদি মানুষ হতাম, আর তোমরা যদি আমার ন্যয় হতে, তবে বুঝতে তোমাদেরকে কী মূল্য দিতাম।

আশা করি তোমরা এই জেলখানার কয়েদীটির কথা নিশ্চয়ই রাখবে। তোমরা আর কোনোদিন কোনো জীবকে আমার মতো সর্বহারা করবে না। তোমরা যেভাবে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে বসবাস করছো তাদেরকেও তোমাদের আওতাভুক্ত করো। তাহলে সব জীব স্বীয় খুশিতে জগতে বিচরণ করতে পারবে। স্রষ্টার তৈরি জগৎ সুচারু রুপে বিরাজ করবে। প্রকৃতি চিরকাল ব্যপি মুখরিত থাকবে। 'বাংলাদেশ' নামক তোমরা যে রুপময় দেশটিতে বাস করছো তার প্রতিটি সৌন্দর্য হাজারো গুনে বেড়ে যাবে। প্রকৃতির বুকে তোমাদের দেশ মাথা উঁচু করতে সমর্থ হবে এবং স্রষ্টার মহান উদ্দেশ্য নিশ্চয় সার্থক হবে।
"ময়না" নামক পক্ষিজাত হয়ে এই আমার চিরকাল ব্যাপি প্রত্যাশা...


Share: