Showing posts with label Human Brain. Show all posts
Showing posts with label Human Brain. Show all posts

Sunday, March 26, 2023

অনলাইনে আজীবনের জন্য ব্রেইন আপলোড সম্ভব হলে কেমন দুনিয়া হবে?

এমন একটা সময় যদি আসে, যখন মানুষের ব্রেইন আজীবনের জন্য অনলাইনে আপলোড করে রাখা সম্ভব হবে, তখন দুনিয়াটা কেমন হবে? 

রক্তমাংস সহ মস্তিষ্ক নয়, শুধুমাত্র আপনার-আমার চিন্তাগুলো একটি কম্পিউটারের মেমোরিতে সংরক্ষণ করা হবে। আমরা মারা গেলেও বছরের পর বছর ব্রেইন থাকবে জীবিত; একা একাই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে থাকবে।

এই ব্যাপারটিকে অসম্ভব মনে হলেও ভবিষ্যতে এমনটাই ঘটার সম্ভাবনা আছে। চ্যাটজিপিটির মতো AI চালিত চ্যাটবট গুলো যদি এখনই মানুষের সেন্স, হিউমার বুঝে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তবে অনুরুপ অ্যালগরিদম প্রতিটা মানুষের জন্য আলাদা ভাবে ডিজাইন করা শুধু সময়ের বাকী!

বর্তমানে আপনার পরিচিত যত মানুষ আছে তাদের মধ্যে কতজন দৈনিক আপনার সাথে সরাসরি (face to face) কমিউনিকেশন করতে পারে? নির্দিষ্ট কয়েকজন বাদে অধিকাংশ মানুষই কিন্তু অনলাইন / সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাকে অনুসরণ করে।

আপনার আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হলে তারা ভাবে আপনি দিয়েছেন / খেয়াল করতেছেন; অথচ আপনি কিন্ত সারাক্ষণ পোস্টের সাথে নেই। আপনার মতো করে একটি ছবির সাথে নাম লাগিয়ে সেই প্রোফাইল দিয়ে আপনার চিন্তা বা কার্যক্রম গুলো প্রকাশ করার কারনে মনে হচ্ছে মানুষটা আপনি নিজেই।  

আবার চ্যাটিং এর সময় মনে হয়, একটি মানুষ আপনাকে রিপ্লাই দিচ্ছে। অথচ 'মেসেঞ্জার' প্রোগ্রামিং দিয়ে তৈরিকৃত শুধুমাত্র একটি অ্যাপ, যেটাকে কেউ যা কিছু লিখে দেয়, সেটাই অন্যজনের কাছে এমনভাবে পৌঁছে দেয়, মনে হয় যেন একটি মানুষ-ই রিপ্লাই দিচ্ছে।  

তাহলে বর্তমানে অনলাইনে জীবিত থাকার জন্য আপনাকে শুধুমাত্র এই অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিতে হয়। এখন আপনি যেভাবে অ্যাপগুলোকে নির্দেশ দিতে পছন্দ করেন সেই আবেগ, অনুভূতি, চিন্তা, স্মৃতি গুলো যদি কম্পিউটার একবার রেকর্ড করে নিতে পারে তখন তো আর আপনাকে প্রয়োজন হবে না। ও একা একাই আপনার মতো করে পোস্ট দেয়া, মেসেজ দেয়া - সবকিছু পারবে।

তবে এই অসাধ্যকে সাধন করা সহজ কোনো কথাও না। কারন 86 বিলিয়ন নিউরন সমৃদ্ধ মানব মস্তিষ্কের অনুরুপ একটি তৈরি করতে যে পরিমান শক্তিশালী কম্পিউটার লাগবে তা এখনও বাজারে আসেনি।

আর যখন সম্ভব হয়েই যাবে, তখন আপনি বেঁচে না থাকা স্বত্তেও আপনার ব্রেইনকে সরাসরি কাজে লাগিয়ে জটিলতর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হবে। আবার এই টেকনোলজি-ই মানবজাতির জন্য বিভিন্নভাবে হুমকিস্বরূপও হতে পারে। ব্যাপারটিকে আপনার কাছে কেমন মনে হয়?

Share:

Sunday, February 12, 2023

সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কে Ad. বসানো সম্ভব হলে দুনিয়াটা কেমন হবে?

এখন পর্যন্ত যেকোনো কোম্পানি বিজ্ঞাপন (Advertisement) দেয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে মানুষের 'চোখ' আর 'কান' -কে ব্যবহার করে পণ্য ক্রয়ের জন্য আকৃষ্ট করে। কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপনে যেসব পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, ভিডিও, অডিও ব্যবহার করে সেগুলো আমরা প্রথমত (চোখ, কান) এই দু'টো ইন্দ্রিয় দিয়েই অনুভব করি। তারপর সেই তথ্য মস্তিষ্কের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে পণ্য কেনার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। 

অর্থাৎ (সম্ভবত) এখন পর্যন্ত কোনো টেকনোলজি অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের (চোখ, কান) সাহায্য ব্যাতিত মানুষের মস্তিষ্কে সরাসরি বিজ্ঞাপন নিয়ে ল্যান্ড করতে পারে না। 

কিন্তু বর্তমানে টেকনোলজির যে দুর্দান্ত গতি, তাতে মনে হচ্ছে এমন যুগ শীঘ্রই আসছে; যখন সরাসরি মানুষের মস্তিষ্ক-ই হবে বিজ্ঞাপণ দেয়ার প্লাটফর্ম। মস্তিষ্ক আপনার, কিন্তু সেখানে চিন্তা কেনাবেচা করবে বিভিন্ন কোম্পানি!

অদ্ভুত না?!

যেকোনো কম্পিউটার / স্নার্টফোনে যেভাবে ইউনিক IP Address থাকে তেমনি পৃথিবীর সবগুলো ব্রেইনের একেকটা Brain Address থাকবে। যেটা দিয়ে সব মানুষকে আলাদাভাবে ট্র‍্যাক করা যাবে। 

তখন 'ব্রেইন প্রোভাইডার' নামে কিছু কোম্পানি থাকবে, যারা আমাদের ব্রেইনের একটু স্পেস ভাড়া নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকবে। তারপর তারা সেসব ব্রেইনে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বসিয়ে বিজনেস করবে। 

আর একটু সহজ করে যদি বলি, বর্তমানে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনে (যেমন ফেসবুক, ইউটিউব ভিডিও) হোস্ট কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন বসিয়ে বিজনেস করে যাচ্ছে। কিন্তু তখন এসব মধ্যবর্তী প্লাটফর্মগুলোর আর প্রয়োজন হবে না। সরাসরি আমাদের মস্তিষ্ক-ই হবে বিজ্ঞাপন বসানোর প্লাটফর্ম। 

ধরুন, এই মুহুর্তে আপনার একটা স্মার্টফোন কেনা দরকার- এটা ভাবা শুরু করলেন; আর সাথে সাথেই Samsung, Vivo, Realme, Xiaomi এর তৈরি করা সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনগুলো আপনার চিন্তার মধ্যে ঢুকে গেলো। তারপর আপনি সেসব চিন্তা থেকে বিভিন্ন ফিচার যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নিলেন কোনটা কেনা উচিত। প্রোডাক্টের রিভিউ ভিডিও দেখা বা রিভিও আর্টিকেল আর পড়া লাগলো না।

বর্তমানে দেখা যায়, মোবাইল ওপেন করলে সেখানে- 'অ্যাড', টেলিভিশন ওপেন করলে সেখানেও- 'অ্যাড'। বিরক্ত হয়ে ইলেক্ট্রিক ডিভাইস রেখে বাহিরে হাঁটতে গেলেন; সেখানে গিয়ে দেখা গেলো "যেদিকে তাকান সেদিকেই অ্যাড।"

আজকাল এমনকি শৌচাগারে গিয়েও বিজ্ঞাপন থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। টয়লেট ক্লিনার, ডিটারজেন্ট, এয়ার ফ্রেশনার, বেসিন, কমোড, ট্যাপ, বদনা সহ টয়লেট্রিজ প্রোডাক্টগুলোতে নানা বিজ্ঞাপন বসানো থাকে; আর সেগুলো তখন মস্তিষ্কে ঘুরতে থাকে। 

বর্তমানেই বিজ্ঞাপনের এই ভয়াল অবস্থা, এমন যুগ যদি এসেই যায়, যখন আমাদের মস্তিষ্কে সরাসরি বিজ্ঞাপন বসাতে পারবে, তখন আমরা কোথায় গিয়ে নিজেকে কয়েক মিনিটের জন্য নিরাপদ রাখবো?

তখন দেখা যাবে আমাদের ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন গুলোও হবে একেকটা প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন নিয়ে। কোম্পানি আমাদের স্বপ্নগুলোকে একেক রাতের জন্য ভাড়া নিবে। সকালে উঠে স্বপ্নে দেখা প্রোডাক্টগুলো কেনার চিন্তা করলেন। সাথে সাথে দরজায় কলিং বেল। খুলে দেখলেন দরজার সামনে 'ড্রোন' আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে হাজির।

তখন যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকবে তারা চাইলে নিজের ব্রেইন এর প্রিমিয়াম ভার্সন নিয়ে নিতে পারবে; যেখানে কোনো অ্যাড এর ঝামেলা থাকবে না। অর্থাৎ বর্তমানে আমরা কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে অ্যাড বন্ধ করার জন্য প্রিমিয়াম / পেইড ভার্সন নিয়ে থাকি। তখন আমাদের মস্তিষ্কে যাতে অতিরিক্ত অ্যাড না আসে সেজন্য 'ব্রেইন অ্যাড ব্লকার' / 'ফ্রি ব্রেইন' / 'সেইফ ব্রেইন' নামে বিভিন্ন সফটওয়্যার বা টুলস থাকবে। কিন্তু সাধারণ মানুষদের কী হবে?!

জানি না, এগুলো আসলেই সম্ভব হবে কিনা। সবই কাল্পনিক ধারণা মাত্র। তবে Artificial Intelligence, Virtual Reality, Machine Learning, Data Science যে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে তাতে তো সেরকম আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। Brain Chip আবিষ্কার সফল হয়ে গেলে তো আর কোনো কথাই নেই...! 

হিউম্যান কর্তৃক আবিষ্কার এর দশাই যদি এমন হয়, তাহলে সেই হিউম্যানদের 'আবিষ্কারক' মহান সৃষ্টিকর্তা আরও কত কিছুই না করতে পারেন...!

[Please don't take this post seriously, just take as imagination]

Share:

Thursday, June 2, 2022

আমাদের মস্তিষ্কের দাম নির্ণয়ের কোনো উপায় আছে কি?

ছোটবেলা থেকেই আমরা একটা কথা শুনে আসছি- মানুষের মস্তিষ্ক নাকি অনেক দামী, অমূল্য; এর অপরিসীম ক্ষমতা -এরকম অনেক কিছু।

কিন্তু সেটা কিভাবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা বাস্তব বা প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই না বুঝে বিশ্বাস করার মতো একটা ব্যাপার ছিলো।

যেমন, আমরা বিশ্বাস করি, "শিক্ষাই দারিদ্র বিমোচনের মূল অস্ত্র।" কিন্তু শিক্ষা কিভাবে দারিদ্রতা দূর করে, সেটা সরাসরি অনেকেই জানি না, বা জানার চেষ্টা করি না। সচারাচর দেখা যায়, শিক্ষিতদের চেয়ে ব্যবসায়ীরাই বেশি অর্থবিত্তের অধিকারী। অথচ তারপরও শিক্ষাকে দারিদ্র্য বিমোচনের অস্ত্র হিসেবেই আমরা চোখ বুঝে মেনে নিই। আমরা কিন্তু কখনোই বলি না যে, "ব্যবসা দারিদ্র বিমোচনের অস্ত্র"। 

তেমনি ভাবে কোনো চিন্তাভাবনা না করেই মস্তিষ্ককে মেনে নিই দেহের সবচেয়ে মূল্যবান অঙ্গ হিসেবে।

কিন্ত আমার প্রশ্ন হচ্ছে, "মস্তিষ্ক, মাত্র ১৩৬৬ গ্রাম (male) ওজনের খুবই ছোট একটি জিনিস, সেটাকে এত মূল্যবান কেন বলা হয়? আমাদের এত বড় একটা দেহে হাত, পা, কিডনি, হার্ট সহ আরও কত অঙ্গ আছে। সেগুলোকে তো এতোটা মূল্য দেয়া হয় না। 

এই বস্তুটার এতোই দাম যে , আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর তাঁর মস্তিষ্ক নাকি চুরি পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিলো। অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর কারন বের করার দায়িত্বে ছিলেন- ডা. হার্ভি নামে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক। তিনি কৌতূহল বশত (আইনস্টাইনের পরিবারের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্তেও) ইতিহাস সৃষ্টিকারী একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি আইনস্টাইনের মস্তিষ্ককে মাথা থেকে পৃথক করে কেঁটে ২৪০টি ব্লকে ভাগ করে ১০০০ এর বেশি স্লাইড তৈরি করে পৃথিবীর বিভিন্ন গবেষকদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এই গবেষণাও এটাই প্রামাণ করে যে, মস্তিষ্ক আসলেই দামী একটা কিছু। 

আচ্ছা, বুঝলাম, আইনস্টাইন পৃথিবীর কিংবদন্তি মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন, তাই হয়তো তাঁর মস্তিষ্ক নিয়ে এতো কৌতূহল। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের মস্তিষ্ককে কিভাবে দামী বলবো? আমরা তো আজ পর্যন্ত তেমন কিছুই আবিষ্কার করলাম না, বা তেমন বিশেষ কিছু করার চেষ্টাও করি না। তাহলে আমাদের মস্তিষ্কের কি কোনোই মূল্য নেই? 

এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়েই আজকের এই লেখা। আমাদের মস্তিষ্কের মূল্য আছে, নাকি নেই সেটা বলার আগে কয়েকটা তথ্য দেই। 

আমি যদি আপনাকে বলি, আপনার মস্তিষ্ককে প্রতিদিন মাত্র কয়েক মুহূর্ত ভাড়া নেয়ার জন্য পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ টোপ পেতে বসে আছে। 

অন্য কারও মস্তিষ্ক না, আপনারটা-ই। 

তাহলে কি আপনি বিশ্বাস করবেন? 

বিশ্বাস না করার-ই কথা।

আপনি যদি আমার লেখাটার এই পর্যন্ত পড়েই থাকেন, তাহলে আমি বলবো- আপনিও কিন্তু আমার বড়শীর টোপে আটকে গেছেন। আপনার মস্তিষ্ককে কিন্তু এই মুহুর্তে আমি-ই নিয়ন্ত্রণ করতেছি!

হা-হা-হা, অবাক লাগছে! তাই না?

আচ্ছা, আর একটু ভেঙ্গে বলি। আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে যদি ৫০০ জন ফ্রেন্ড থাকে, তাদের মধ্য থেকে যদি দিনে মাত্র ৫০ জনও কোনো স্ট্যাটাস দেয়, তাহলে সেই ৫০ জনই কিন্তু আপনার মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কারন সবার স্ট্যাটাস এর পিছনেই একটা প্রধান উদ্দেশ্য থাকে- এটি যেন বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং বেশি মানুষ পড়ে / রিয়াকশন দেয় / কমেন্ট করে। 

শুধু আপনার বন্ধু-বান্ধব ই যে এই কাজ করে যাচ্ছে এমনটা কিন্তু নয়। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আপনার পিছনে লেগে আছে। 

তো, সেটা কিভাবে?

আপনি ইউটিউবে যে ভিডিও দেখেন, সেখানে মাঝেমধ্যে যে অ্যাড (বিজ্ঞাপন) গুলো আসে, সেই অ্যাড এর পিছনে কোম্পানির মালিকরা কী পরিমান টাকা খরচ করেন সে সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে কি? 

জেনে অবাক হবেন, শুধুমাত্র গ্রামীণফোন-ই ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মাত্র ৫ বছরে অনলাইন বিজ্ঞাপনের পিছনে ৪৩ কোটি ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২৯ ডলার (টাকা না কিন্তু, অ্যামেরিকান ডলার; বর্তমানে ১ ডলার = ৮৯.১০ টাকা) খরচ করেছে। 

এরকম দেশ বা পৃথিবীর ছোট-বড় প্রায় সব কোম্পানিই আপনাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড ধরে একটা বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য আকুল হয়ে বসে আছে। 

আপনার হয়তো মনে হচ্ছে, এই টাকা তো তারা একসাথে সবার পিছনেই খরচ করছে। আমার একার পিছনে তো করে না। 

কিন্তু বিষয়টা আসলে এমন না। এরা সবার পিছনে টাকা খরচ করতেছে মনে হলেও, তারা কিন্তু প্রতিটি মানুষকে আলাদাভাবেই টার্গেট করার চেষ্টা করে। আপনি কখন কী পছন্দ করেন, আপনার এখন কোন জিনিসটা দরকার তা কিন্তু আপনার চেয়েও তারা ভালো জানে।

ধরুন, কোনো একটা কোম্পানি ১০০ জন মানুষের কাছে একটা বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেয়ার প্লান করলো। সেজন্য তারা ২ হাজার টাকা খরচ করলো। তাহলেও কিন্তু আপনার পিছনে তারা গড়ে ২০ টাকা খরচ করলো। 

এভাবে একইসাথে অন্য ধরণের কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান গুলোও তো খরচ করতেছে। এভাবে যদি ৫০০টি কোম্পানিও খরচ করে তাহলে কিন্তু দৈনিক আপনার পিছনে ১০ হাজার টাকা কেউ না কেউ খরচ করে চলছে। 

এটা তো বোঝার সুবিধার্থে ছোট একটা এক্সাম্পল মাত্র। কিন্তু আমার মনে হয় বাস্তবে একজন মানুষের পিছনে পৃথিবীর সবগুলো কোম্পানি গড়ে দৈনিক কোটি কোটি টাকা খরচ করে।

কিন্তু এতে তাদের লাভ কী?

লাভ হলো সেটা-ই। অর্থাৎ আপনার মস্তিষ্ক-কে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভাড়া নিয়ে আপনার সম্পূর্ণ দেহকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা। কারন আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে যে নির্দেশ দিবে আপনি কিন্তু ঠিক সেটাই করবেন।

আপনি একটা কলম কিনেন, বা একটা গাড়ি কিনেন, অথবা, কারও কথায় মুগ্ধ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ডিসিশন নিলেন - সবই কিন্তু ঐ মস্তিষ্ক-ই নিয়ন্ত্রণ করতেছে।

তাই কোম্পানি বা যেকোনো প্রতিষ্ঠান ভালো করেই জানে, আপনার মস্তিষ্ককে যদি কোনো ভাবে এক মুহুর্তের জন্যও নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায় তাহলে আপনার পকেট থেকে বিশাল কিছু চোখের অগোচরেই নিয়ে নেয়া সম্ভব।

তাহলে এখনও বলবেন আপনার মস্তিষ্কের তেমন দাম নেই? 

যদি দাম না-ই থাকে তাহলে এত টাকা তারা কী জন্য খরচ করতেছে?

আসলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের মস্তিষ্কেরও অনেক দাম। অপরিসীম দাম। কিন্তু আমরা সেটা সহজে আদায় করে নিতে পারি না। মস্তিষ্কের দাম বাড়ানোর জন্য কোনো কাজ করা শুরু করলেই ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিভিশন, ক্রিকেট, ফুটবল, আড্ডা-বাজি সবকিছু এসে বাঁধা দেয়া শুরু করে, আর তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়।

মূলত আমাদের মস্তিষ্কের রাজ প্রাসাদ থেকে ধন-সম্পদ গুলো প্রতিদিন এরকম হাজারো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছিনতাই করে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। তাই আমাদের মস্তিষ্কের দাম আর বাড়ে না। 

আচ্ছা, আপনি আইনস্টাইনের ছবি দেখলে কি চিনতে পারবেন? আমি বলবো- 'না'। 

আমি শিওর, আপনি কাজী নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ুন আহমেদ এরকম কোনো বিখ্যাত মানুষকেই চিনবেন না। 

কী?! আমাকে বোকা মনে হচ্ছে?

আসলে আমরা আইনস্টাইনকে যে 'আইনস্টাইন' হিসেবে চিনি, তা কিন্তু তাঁর মাত্র ১২৩০ গ্রাম ওজনের মস্তিষ্কটার কারনেই। (তাঁর মস্তিষ্কের ওজন সাধারণ পুরুষদের চেয়ে একটু কম ছিলো।) তাঁর সুদর্শন দেহ, গোঁফ বা পোশাক বা এরকম কিছুর জন্য কিন্তু তিনি আপনার কাছে পরিচিত হননি। তাঁর মস্তিষ্কের অভূতপূর্ব কাজের জন্যই আমরা তাঁর অন্য সবকিছু চিনেছি।

তাই শেষ কথা হচ্ছে, কোটি কোটি টাকার চেয়েও বেশি মূল্যবান- নিজের মস্তিষ্ককে ভালোবাসতে চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখুন, 'মস্তিষ্ক' নামের আপনার এই রাজপ্রাসাদের সম্পদ গুলো অন্য সবাই একেবারে লুটপাট করে যেন শেষ করে না দেয়! আপনি-আমি সবাই-ই এই লুটপাটে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছি।


References:

Grameenphone, Robi, Banglalink pay Tk 87b online ads | Prothom Alo

আইনস্টাইনের ব্রেইন চুরির গল্প! - 10 Minute School Blog

আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক অন্যরকম? | প্রথম আলো (prothomalo.com)

Human brain - Wikipedia

Share: