Showing posts with label Human Analysis. Show all posts
Showing posts with label Human Analysis. Show all posts

Monday, March 6, 2023

মৃত্যুর আগে এই এক্সামটা কেন বার বার দেয়া উচিত?

একটা ফাইনাল এক্সামের পূর্বে মিড টার্ম, ইনকোর্স, ক্লাস টেস্ট, মক টেস্ট সহ কত ভাবেই আমরা প্রিপারেশন নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করি। অথচ 'মৃত্যু' এমন একটি অবধারিত ল্যাব এক্সাম, যার তেমন একটা প্রিপারেশন নেয়া হয়েই উঠে না। অবশ্য এটা তো একটা 'অনটাইম' এক্সাম, তাই সরাসরি স্বাদ নিয়ে অনুধাবন করার কোনো উপায়ও থাকে না। ধর্মীয় বিধিনিষেধ গুলো মানতে থাকাবস্থায়-ই অটো প্রিপারেশন হয়ে যায়।

তারপরও আমার মনে হয়, আশেপাশে যে কারও মৃত্যুতে সরাসরি উপস্থিত থাকা Final Death এর পূর্বে একটা Mock Test of Death এর মতো। কল্পনায় মৃত ব্যক্তির স্থানে নিজেকে বা স্ব-পরিবারের কাউকে বসিয়ে অবশিষ্ট মানুষের অ্যাক্টিভিটি পর্যবেক্ষণ করলে এই তুচ্ছ পার্থিব জীবনের চরম বাস্তবতাগুলো কিছুটা হলেও অনুধাবন করা যায়। তবে তার চেয়েও বড় বাস্তবতা হচ্ছে, মৃত্যুর প্রতি সাময়িক এই অনুভূতি থেকে আমরা খুব দ্রুতই আবার স্বাভাবিক চিন্তা-চেতনায় ফিরে যাই; 'মৃত্যু' আবারও হয়ে যায় 'ঝাপসা', 'ঘোলাটে', 'অস্বচ্ছ'! 

So, as much as we can, we should visit the place of death at least to recharge our minds...

Share:

Sunday, February 12, 2023

সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কে Ad. বসানো সম্ভব হলে দুনিয়াটা কেমন হবে?

এখন পর্যন্ত যেকোনো কোম্পানি বিজ্ঞাপন (Advertisement) দেয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে মানুষের 'চোখ' আর 'কান' -কে ব্যবহার করে পণ্য ক্রয়ের জন্য আকৃষ্ট করে। কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপনে যেসব পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, ভিডিও, অডিও ব্যবহার করে সেগুলো আমরা প্রথমত (চোখ, কান) এই দু'টো ইন্দ্রিয় দিয়েই অনুভব করি। তারপর সেই তথ্য মস্তিষ্কের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে পণ্য কেনার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। 

অর্থাৎ (সম্ভবত) এখন পর্যন্ত কোনো টেকনোলজি অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের (চোখ, কান) সাহায্য ব্যাতিত মানুষের মস্তিষ্কে সরাসরি বিজ্ঞাপন নিয়ে ল্যান্ড করতে পারে না। 

কিন্তু বর্তমানে টেকনোলজির যে দুর্দান্ত গতি, তাতে মনে হচ্ছে এমন যুগ শীঘ্রই আসছে; যখন সরাসরি মানুষের মস্তিষ্ক-ই হবে বিজ্ঞাপণ দেয়ার প্লাটফর্ম। মস্তিষ্ক আপনার, কিন্তু সেখানে চিন্তা কেনাবেচা করবে বিভিন্ন কোম্পানি!

অদ্ভুত না?!

যেকোনো কম্পিউটার / স্নার্টফোনে যেভাবে ইউনিক IP Address থাকে তেমনি পৃথিবীর সবগুলো ব্রেইনের একেকটা Brain Address থাকবে। যেটা দিয়ে সব মানুষকে আলাদাভাবে ট্র‍্যাক করা যাবে। 

তখন 'ব্রেইন প্রোভাইডার' নামে কিছু কোম্পানি থাকবে, যারা আমাদের ব্রেইনের একটু স্পেস ভাড়া নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকবে। তারপর তারা সেসব ব্রেইনে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বসিয়ে বিজনেস করবে। 

আর একটু সহজ করে যদি বলি, বর্তমানে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনে (যেমন ফেসবুক, ইউটিউব ভিডিও) হোস্ট কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন বসিয়ে বিজনেস করে যাচ্ছে। কিন্তু তখন এসব মধ্যবর্তী প্লাটফর্মগুলোর আর প্রয়োজন হবে না। সরাসরি আমাদের মস্তিষ্ক-ই হবে বিজ্ঞাপন বসানোর প্লাটফর্ম। 

ধরুন, এই মুহুর্তে আপনার একটা স্মার্টফোন কেনা দরকার- এটা ভাবা শুরু করলেন; আর সাথে সাথেই Samsung, Vivo, Realme, Xiaomi এর তৈরি করা সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনগুলো আপনার চিন্তার মধ্যে ঢুকে গেলো। তারপর আপনি সেসব চিন্তা থেকে বিভিন্ন ফিচার যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নিলেন কোনটা কেনা উচিত। প্রোডাক্টের রিভিউ ভিডিও দেখা বা রিভিও আর্টিকেল আর পড়া লাগলো না।

বর্তমানে দেখা যায়, মোবাইল ওপেন করলে সেখানে- 'অ্যাড', টেলিভিশন ওপেন করলে সেখানেও- 'অ্যাড'। বিরক্ত হয়ে ইলেক্ট্রিক ডিভাইস রেখে বাহিরে হাঁটতে গেলেন; সেখানে গিয়ে দেখা গেলো "যেদিকে তাকান সেদিকেই অ্যাড।"

আজকাল এমনকি শৌচাগারে গিয়েও বিজ্ঞাপন থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। টয়লেট ক্লিনার, ডিটারজেন্ট, এয়ার ফ্রেশনার, বেসিন, কমোড, ট্যাপ, বদনা সহ টয়লেট্রিজ প্রোডাক্টগুলোতে নানা বিজ্ঞাপন বসানো থাকে; আর সেগুলো তখন মস্তিষ্কে ঘুরতে থাকে। 

বর্তমানেই বিজ্ঞাপনের এই ভয়াল অবস্থা, এমন যুগ যদি এসেই যায়, যখন আমাদের মস্তিষ্কে সরাসরি বিজ্ঞাপন বসাতে পারবে, তখন আমরা কোথায় গিয়ে নিজেকে কয়েক মিনিটের জন্য নিরাপদ রাখবো?

তখন দেখা যাবে আমাদের ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন গুলোও হবে একেকটা প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন নিয়ে। কোম্পানি আমাদের স্বপ্নগুলোকে একেক রাতের জন্য ভাড়া নিবে। সকালে উঠে স্বপ্নে দেখা প্রোডাক্টগুলো কেনার চিন্তা করলেন। সাথে সাথে দরজায় কলিং বেল। খুলে দেখলেন দরজার সামনে 'ড্রোন' আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে হাজির।

তখন যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকবে তারা চাইলে নিজের ব্রেইন এর প্রিমিয়াম ভার্সন নিয়ে নিতে পারবে; যেখানে কোনো অ্যাড এর ঝামেলা থাকবে না। অর্থাৎ বর্তমানে আমরা কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে অ্যাড বন্ধ করার জন্য প্রিমিয়াম / পেইড ভার্সন নিয়ে থাকি। তখন আমাদের মস্তিষ্কে যাতে অতিরিক্ত অ্যাড না আসে সেজন্য 'ব্রেইন অ্যাড ব্লকার' / 'ফ্রি ব্রেইন' / 'সেইফ ব্রেইন' নামে বিভিন্ন সফটওয়্যার বা টুলস থাকবে। কিন্তু সাধারণ মানুষদের কী হবে?!

জানি না, এগুলো আসলেই সম্ভব হবে কিনা। সবই কাল্পনিক ধারণা মাত্র। তবে Artificial Intelligence, Virtual Reality, Machine Learning, Data Science যে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে তাতে তো সেরকম আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। Brain Chip আবিষ্কার সফল হয়ে গেলে তো আর কোনো কথাই নেই...! 

হিউম্যান কর্তৃক আবিষ্কার এর দশাই যদি এমন হয়, তাহলে সেই হিউম্যানদের 'আবিষ্কারক' মহান সৃষ্টিকর্তা আরও কত কিছুই না করতে পারেন...!

[Please don't take this post seriously, just take as imagination]

Share:

Friday, December 16, 2022

সুখী হতে Spiritual Need কেন জরুরি?

এই মুহুর্তে আপনি যা করতেছেন শুধু তা-ই নয়; মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যা কিছু করে সব-ই শুধুমাত্র কয়েক ধরণের প্রয়োজন (Need) মেটাতে করে থাকে। যেমন, আপনি এখন ফেসবুক ব্যবহার করতেছেন আপনার মধ্যে থাকা 'বিনোদন' নামক Need এর কিছুটা ঘাটতি পূরণে। যা 'Mental Need' এর অন্তর্ভুক্ত।

এরকম আমাদের জীবনে প্রায় সব ধরণের প্রয়োজনকে মোটামোটি নিচের ক্যাটেগরি গুলোতে ভাগ করা যায়ঃ

1. Physical Need

2. Mental Need 

3. Spiritual Need

Physical Need হচ্ছে গাড়ি, বাড়ি, সম্পদ, খাদ্য, বস্ত্র, অর্থবিত্ত ইত্যাদি। Mental Need হচ্ছে আমাদের ওইসব কার্যক্রম - যেগুলো আমাদের মনে ভালোলাগা, ভালোবাসা, আনন্দ, উপলব্ধির সঞ্চারণ ঘটায়।  

আর Spiritual Need হচ্ছে এমন একটা Need যার মূল্য অন্য সকল Need এর উপরে। শুধুমাত্র এই Need থেকে যে Satisfaction আসে সেটা অন্য সকল Need থেকে বেশি এবং একমাত্র এটার প্রভাব-ই মানুষের মৃত্যুর পরেও স্থায়ী থাকে। আর কারও এই Need এর চাহিদা পূরণ না হলে তার মধ্যে কখনোই (দীর্ঘস্থায়ী) সুখী মানুষের পূর্ণতা আসে না। Spiritual Need এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য বা ধর্মীয় বিধিমালা। এছাড়া মানবকল্যানে স্বার্থহীন কোনো কাজ করাও এই Need এর অন্তর্ভুক্ত। 

বর্তমান সমাজে বেশিরভাগ মানুষ-ই শুধুমাত্র Physical Need পূরণে প্রায় সমগ্র জীবন কাঁটিয়ে দেয়। শুধু এই একটি মাত্র Need পূরণের স্বার্থে নানান অনৈতিক কাজে যুক্ত হয়ে নিজের স্বচ্ছ ব্যক্তিস্বত্তা-কে নষ্ট করে ফেলে।

এ কারনে, Physical Need অর্থাৎ অর্থবিত্ত-সম্পদে অপরিসীম প্রাচুর্যতা থাকা স্বত্তেও মনের ভিতর Satisfaction বা Happiness ধরা দেয় না; অথবা স্থায়ী থাকে না। 

থাকবেই বা কেন? Human Being যে Need পূরণে সবচেয়ে বেশি সুখী হয় সেগুলো বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও এদিকে ফিরেই তাকানো হয় না! Physical / Materialistic Need পূরণ করতে করতেই ইহধাম ত্যাগের ঘন্টা বেজে যায়...!

Share:

Friday, September 23, 2022

নতুন মানুষের কাছে কেন Organic উপায়ে পরিচিত হওয়া জরুরি?

একজন মানুষ নতুন কারও কাছে পরিচিত হয় ২টি উপায়েঃ

১. অর্গানিক

২. ইনর্গানিক

(Not have any reference, just only my guessing)

অর্গানিক (Organic) উপায়ে একটি মানুষ তার কোনো একটি কাজের মাধ্যমে অন্যদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচিত হয়ে যায়। আগে মানুষ তার কাজগুলো থেকে উপকৃত হয়; তারপর স্বেচ্ছায় তার সম্পর্কে জানার আগ্রহবোধ করে। এই পরিচিতিটা অনেক স্বচ্ছ, দীর্ঘস্থায়ী ও ভালোবাসাপূর্ণ হয়। 

আর, ইনর্গানিক (Inorganic) উপায়ে একটি মানুষ কাজ কর্ম ভুলে গিয়ে এক প্রকার হাত-পা ধরে নিজেকে পরিচিত করানোর চেষ্টায় নেমে যায়। তাদের ধারণা- যেভাবেই হোক, শুধুমাত্র নিজের 'নাম' আর 'চেহারা'টা সবাইকে মুখস্থ করাতে পারলেই এভারেস্ট জয়! যা সবচেয়ে সস্তা ও ক্ষনস্থায়ী ধরণের পরিচিতি। তাদের সবচেয়ে ভুল ধারণা, "যত বেশি মানুষ চিনবে, ততোই নিজেকে বিখ্যাত করে ফেলা যাবে।"

একটা ভিডিও বা পোস্ট অন্য একজন মেসেঞ্জারে জোর করে পাঠিয়ে দেয়ার পরে বাধ্য হয়ে দেখা, আর নিজে কষ্ট করে খুঁজে বের করে দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য। আবার, একটা প্রোডাক্ট বিজ্ঞাপন দেখে কেনা, আর অন্য কেউ উপকৃত হওয়ার পরে তার রেফারেন্সের মাধ্যমে কেনার মধ্যে অনেক পার্থক্য। 

বর্তমান দেশি রাজনীতিতে ২নং (Inorganic) পদ্ধতিটা অনেক বেশি দেখা যায়। এছাড়া, "আমি অমুক-তমুকের অমুক আত্মীয় হই", "আমি অমুক পেশায় চাকরি করি", "হাত-পা ধরে সোস্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের এনগেজমেন্ট বাড়ানো" - সহ এরকম নানা উদাহরণ বর্তমানে অনেকের মধ্যেই দেখা যায়।

"Human lives in his works for years & years; not for age or profession or followers."

Share:

Thursday, September 15, 2022

চেহারার ছবি তোলার চেয়েও চিন্তাগুলোর স্মৃতি ধারণ কেন জরুরি?

সময় যত পেরিয়ে যায় ততোই আমাদের চেহারার গঠন বা দৈহিক অবস্থা ধীরে ধীরে নতুন আকৃতিতে রুপ নিতে থাকে। তাই-ই হয়তো স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা নিজেদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করে রাখি। তবে একটা মানুষের দেহের আকৃতি যতই পরিবর্তিত হোক, তা একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই থাকে। ১০ বছর পরে আপনি একেবারে ভিন্ন চেহারার কোনো নতুন মানুষে পরিণত হয়ে যাবেন না।

কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কের চিন্তাধারণা এমন-ই একটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য, যা জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে দিন দিন অবিশ্বাস্য ভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে। আর যখন কেউ তার বিগত দিনের চিন্তাধারার স্মৃতিচারণ করতে থাকে, তখন তার বর্তমান চিন্তাধারা দুর্দান্ত গতিতে উন্নত হতে থাকে।

আগের প্রজন্মে মানুষ ডায়েরির পাতায় লেখালেখির মাধ্যমে নিয়মিত মস্তিষ্কের ব্যায়াম করলেও, এখন কেউ কেউ সোস্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে করে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, টেকনোলজির এই ভয়ঙ্কর যুগে আমরা অধিকাংশ মানুষ সেটাও করি না। শুধু নতুন ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতেই ব্যস্ত থাকি। আর, সেজন্যই হয়তো ট্রেন্ডের চাপে ও মস্তিষ্কের সঠিক চর্চার অভাবে নিজেদের অজান্তেই আমাদের চিন্তাধারায় পচন ধরতে থাকে!

Share:

Saturday, September 10, 2022

সুখ পরিমাপের স্কেল ও সুখী হওয়ার আফ্রিকান পদ্ধতি

'Ubuntu' is going to die..!

একজন মানুষ এই মুহুর্তে ঠিক কতটুকু হ্যাপি, সেটা পরিমাপ করার কোনো যন্ত্র বা স্কেল এখনও (সম্ভবত) আবিষ্কৃত হয়নি। যেমন, আমরা সবাই-ই বলি, আমি একজন সুখী বা অনেক সুখী বা হাজার গুণে সুখী মানুষ। কিন্তু এই 'অনেক' বলতে ঠিক কতটুকু সুখী সেটা কিন্তু সঠিকভাবে কেউ বলতে পারি না।

আপনিও বললেন "অনেক হ্যাপি", আর আমিও বললাম "অনেক হ্যাপি"। তাহলে যদি জিজ্ঞাসা করি, আপনার আর আমার মধ্যে তুলনামূলক কে বেশি হ্যাপি? এটার সঠিক উত্তর কিন্তু অসম্ভব। 

যেমনটা আমরা বলতে পারি, আমাদের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট; যা নির্দিষ্ট। কিন্তু হ্যাপিনেস পরিমাপের জন্য সেরকম কোনো স্কেল এখনও নেই। 

ধরুণ, 'Happiness Measuring Scale' নামে সেরকম একটি স্কেল বের হলো। যার সর্বোচ্চ মাত্রা ১০০ ডিগ্রি একক। যেমন, আমি এখন ঠিক কতটুকু হ্যাপি সেটা একটা ডিভাইস দিয়ে বুঝতে পারলাম যে ২০° একক বা ৫০° একক বা ৮০° একক হ্যাপি, ইত্যাদি।

এখন, আমি ২ ধরণের মানুষ সম্পর্কে ধারণা দিবো। 

Type-1: এই ধরণের মানুষ শুধুমাত্র নিজেকে এবং নিজের স্ত্রী-সন্তানদের স্বার্থে যেকোনো কাজ করতে অভ্যস্ত। অর্থাৎ তার পরিবারের সদস্যরা ভালো থাকলেই তিনি হ্যাপি থাকেন। আশেপাশের অন্য আত্মীয় বা অন্য মানুষের কষ্ট-ক্লেশে তার কোনো অনুভূতি জাগ্রত হয় না। তার কাছে ১০০ টাকা থাকলে সম্পূর্ণটা এই সদস্যদের জন্য ব্যয় করেই হ্যাপি থাকেন। 

Type-2: এই ধরণের মানুষ নিজের পরিবার ছাড়াও আশেপাশের আত্মীয় বা অনাত্মীয় বা প্রতিবেশি, সকলকে নিয়ে ভালো থাকতে পছন্দ করেন। অর্থাৎ তার কাছে ১০০ টাকা থাকলে আশেপাশের ২০ জনকে ৫ টাকা করে দিয়ে হলেও হ্যাপি থাকেন। 

এখন, এই দুই প্রকৃতির মানুষকে যদি ঐ Happiness Scale দিয়ে পরিমাপ করি, তাহলে কার হ্যাপিনেস কত ডিগ্রি হবে বলে আপনার মনে হয়?

Type-1 এর হ্যাপিনেস এসেছে শুধুমাত্র ৩-৪ জন মানুষের হ্যাপিনেস থেকে। অন্যদিকে Type-2 এর হ্যাপিনেস এসেছে ২০ জন মানুষের হ্যাপিনেসের সমষ্টি থেকে। ২০ টা মানুষ Happiness Scale অনুসারে ন্যূনতম ৪ ডিগ্রি করে হ্যাপি হলেও সব মিলিয়ে ৮০ ডিগ্রি হ্যাপিনেস হয়ে যায়। অন্যদিকে Type-1 এর হ্যাপিনেস সব মিলিয়ে ৫০ ডিগ্রির উপরে ওঠার কথা না। 

অথচ, Type-1 এর মানুষ এটাই ভাবে যে, তারা মনে হয় সবচেয়ে হ্যাপি। কারন সে স্বজনপ্রীতিতে সফল। 

কিন্তু এর চেয়েও যে অনেক গুণে বেশি হ্যাপি হওয়া সম্ভব সেটা তারা হয়তো অনুভব-ই করতে পারেনি। করবেই বা কিভাবে? Happiness Scale নামক কোনো স্কেলের অস্তিত্ব তো নেই!

তবে এই স্কেল না থাকা সত্বেও কিছু মানুষ কিন্তু ঠিক-ই এই হাইব্রিড হ্যাপিনেস এর ফরমুলাটা বুঝে নিয়েছে। তাই-ই তো এ যুগেও স্বল্প কিছু মহানুভবের দেখা মিলে।

আফ্রিকায় প্রাচীণ একটি শব্দ হচ্ছে উবুন্তু (Ubuntu); যার অর্থ হলো, "I am, because we are". অর্থাৎ "আমি আছি, কারন আমরা সবাই আছি"।

নিগ্রো আফ্রিকানদের আমরা অশিক্ষিত বা যাযাবর মনে করলেও তারা কিন্তু ঠিক-ই এই Ubuntu এর মূল্য অনেক আগেই বুঝে গিয়েছে এবং শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ সবাই সর্বদা এ রীতি মেনে চলার চেষ্টা করে। 

কিন্তু বাংলাদেশে এই Ubuntu -র অস্তিত্ব কতটুকু যে আছে, তাতে আমি সন্দিহান। এজন্যই হয়তো এ দেশে ধনী-গরীব এতো বৈষম্য..!

Share:

Monday, July 18, 2022

অন্যায়ের প্রতিবাদে সবার আগে Ice Breaking কেন জরুরি?

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রেলওয়ে দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থী Mohiuddin Roni ভাই যে সাহসী আন্দোলনের শুরুটা করেছেন সেটিকে বলে 'Ice Breaking'.

যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই 'আইস ব্রেক' করাটাই সবচেয়ে কঠিন। যে গুন বা সাহস হাজারে মাত্র কয়েকজনের মধ্যে থাকে। কেউ একবার এই 'আইস ব্রেক' অর্থাৎ একটুখানি বরফ গলিয়ে ফেলতে পারলেই পরবর্তীতে সাগর পরিমাণ বরফ গলানোর মতো মানুষেরও অভাব থাকে না। দেখবেন, লোকাল বাসে হেল্পার বা ড্রাইভারের ঘাড়ত্যাড়ামির বিরুদ্ধে শুরুতে শুধুমাত্র একজন চেঁচিয়ে উঠে। পরে দেখা যায় পিছনের সিটে বসা ছোট বাচ্চাটাও কিছু না কিছু বলার চেষ্টা করে।

আর, আমার মনে হয়, বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্ণীতি নির্মূলে এরকম দু'য়েকজন Ice Breaker খুবই দরকার; যে কাজ হয়তো অনেক সময় ডাক্তার / ইঞ্জিনিয়ার / সরকারি আমলা বা উচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষাবিদ দিয়েও সম্ভব হয় না।

ইন্ট্রোভার্ট-রা যে সহজে কারও সাথে মিশুক হতে পারে না, সেটার কারনও এই 'আইস ব্রেক' করতে না পারা। যেটি নিয়ে অনেকদিন আগে একবার লিখছিলাম। Link of that Post

Share:

Saturday, July 16, 2022

ঝগড়া বাঁধার পিছনে যে লজিক্যাল ফ্যালাসি কাজ করে

সেদিন একটি লঞ্চের ডেক এ করে আসছিলাম। পাশেই ১৮-২০ বছরের এক ছেলে শুয়ে শুয়ে মোবাইলে উচ্চস্বরে গান শুনতেছিলো। অন্যদের ঘুমে সমস্যা হয় বলে এক লোক তাকে গান বন্ধ করতে অনুরোধ করেছিলো। কিন্তু ছেলেটি বলে উঠলো- "লঞ্চের ইঞ্জিন আর স্লিং ফ্যান থেকেই তো প্রচুর শব্দ হচ্ছে; সেটায় সমস্যা হয় না? তাহলে আমি মোবাইল চালালে কী দোষ?"

দৈনন্দিন কথাবার্তায় আমরা অনেকেই নিজের দোষ স্বীকার না করে এভাবে পাল্টা যুক্তি দিয়ে থাকি। এগুলোকে বলে 'Logical Fallacy' (যুক্তির ভ্রান্তি)। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরণের লজিক্যাল ফ্যালাসি বিদ্যমান। উপরোক্ত ঘটনাটি 'Tu Quoque' বা 'Appeal to Hipocrisy' নামক লজিক্যাল ফ্যালাসির অন্তর্ভুক্ত।

'লজিক্যাল ফ্যালাসি' সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Chamok Hasan এর 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' নামক বইটি পড়তে পারেন।

Share:

Sunday, July 10, 2022

যে কারনে বেশিরভাগ মানুষই সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে না

একজন চা দোকানদার মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর কার্যকলাপ নিয়ে চিন্তিত ও সমালোচনায় লিপ্ত; অথচ তার চা এর মান কিভাবে আর একটু ভালো করা যায় সে ব্যাপারে তার কোনো মাথাব্যথাই নেই!

ঐ দোকানদার কয়েক হাজার ঘন্টার টকশো করতে থাকলেও প্রেসিডেন্টের আচরণের এক চুল পরিমাণও পরিবর্তন হবে না। এরকম যেসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে থাকে সেগুলোকে বলে Circle of Concern.

আর, ঐ দোকানদার চা এর মানোন্নয়নের জন্য মাত্র কয়েক ঘন্টা চিন্তাভাবনা করলে কিছুটা হলেও তার ব্যবসার উন্নতি হবে। এরকম যেসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সেগুলোকে বলে Circle of Influence. 

উপরের ঘটনা একটা নমুনাস্বরূপ উদাহরণ মাত্র। বর্তমানে আমরা বেশিরভাগ মানুষই Circle of Concern নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে Circle of Influence এ নিজের অবদান থাকে প্রায় শূন্য। যার ফলস্বরূপ সর্বত্র শুধুমাত্র সমালোচনা আর গালাগালি-ই চলতে থাকে, উপযুক্ত কোনো সমাধানের দেখা মিলে না। অথচ, Circle of Influence এ যত বেশি সতর্ক হওয়া যাবে, নিজেকে ততোই সত্যিকারের Circle of Concern এর পরিবর্তক বানানো যাবে।

To know in detail you can read the book: 

"The Seven Habits of Highly Effective People"

Share:

Tuesday, July 5, 2022

যে কারনে সবার মনের ভিতরে লুকিয়ে থাকে বিশাল এক হাতি!

আমাদের মনের ভিতরে কিছু কিছু ব্যাপার থাকে যা দিবালোকের মতো সত্য; কিন্তু সহজে প্রকাশ করতে চাই না। শুধুমাত্র ততোটুকুই প্রকাশ করি, যতটুকু করলে সবার সামনে প্রশংসিত থাকা যায় এবং যা সমাজে এক্সেপ্টেবল। কিন্তু মূল উদ্দেশ্যটা লুকিয়েই রাখি। এ ধরণের কাজের একটা স্পেসিফিক নাম আছে। যাকে বলে "Elephant in the Brain".

রুমের ভিতরে বড় একটা হাতি থাকা স্বত্তেও কেউ যদি বলে "আমার রুমে আমি ছাড়া কেউ নেই" - তখন সেটাকে যেমন Elephant in the Room বলা যায়, তেমনি এই বিষয়টিকে Elephant in the Brain বলা হয়।

ইংরেজ লেখক Kevin Simler ও Robin Hanson এই বিষয়টি নিয়ে "The Elephant in the Brain" নামক একটি বই লিখেন। বইটি আমার পড়া হয়নি; তবে বুয়েটের শিক্ষক ও জনপ্রিয় ইউটিউবার Enayet Chowdhury এর একটি ভিডিওতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত দেখলাম। 

দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায় সবাই-ই এরকম বিভিন্ন ধরণের কথা বলে থাকি, যেগুলোতে রয়েছে Elephant in the Brain, কিন্তু খেয়াল করি না। আমি কয়েকটা উদাহরণ দেই-

.

বর্তমানে যারা বলেন,

"রাজনীতিবিদ হয়ে জনগণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিবো।" হ্যাঁ, তারা জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের সেবা অবশ্যই করেন। কিন্তু বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ দের সাব-কনশাস মাইন্ডে সেবার চেয়েও বেশি যে উদ্দেশ্যটি লুকায়িত থাকে তা হলো অগণিত আর্থিক সম্মৃদ্ধি, ভূয়সী সম্মান, প্রশংসা ও রাজনৈতিক প্রভাব হাসিল করা। কোনো রাজনীতিবিদ কিন্তু বলবে না- "আমি এসব উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য রাজনীতি করি।"

.

"ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে জনগণের সেবা করবো" - হ্যাঁ, এসব পেশাজীবীদের সেবা অবশ্যই মহৎ। তাদেরকে বাদ দিলে পৃথিবীর একটা অংশ অচল হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের এসব কথার পিছনে সেবার চেয়েও বড় একটা উদ্দেশ্য লুকায়িত থাকে- প্রচুর টাকা ইনকাম আর বিলাসবহুল লাইফ মেইনটেইন করা। কেউ কিন্তু বলে না- "আমি টাকা ইনকামের জন্য ডাক্তার হবো।"

.

"আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের দায়িত্ব আমাদের হাতে" - বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এরকম আশ্বাস হরহামেশাই দেখা হয়। হ্যাঁ, তারা শিক্ষার্থীদের পিছনে অবশ্যই বিভিন্ন শিক্ষামূলক সার্ভিস দেন। কিন্তু এসব সার্ভিসের পিছনে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্থ উপার্জন। কেউ কিন্তু বলবে না- "আমরা টাকা ইনকামের জন্য শিক্ষার্থী পড়াই।"

.

আমরা যারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ায় রেগুলার নিজেদের ছবি আপলোড করি, তারা যে-ই যা বলি না কেন; অনেকেরই কিন্তু মূল উদ্দেশ্য থাকে সবার সামনে নিজের ভ্যালু ক্রিয়েট করা। এছাড়া বিপরীত লিঙ্গধারী মানুষের অ্যাট্রাকশন ক্যাচ করা, ছবিতে রিয়্যাকশন / কমেন্ট পাওয়া ইত্যাদি। কিন্তু ক্যাপশনে ঠিকই এমন কিছু কথা লিখি যেগুলোর অর্থ এসব উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে।

.

আবার কিছু কিছু মানুষ ঠিকই অন্য কাউকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। কিন্তু এই সাহায্যের পিছনে লুকায়িত থাকে বিশাল একটি স্বার্থ, যা কোনো ভাবেই প্রকাশিত হতে দেয় না। আসলে নিরেট স্বার্থহীন সাহায্যের দৃষ্টান্ত বর্তমানে খুবই কম দেখা যায়।

Elephant in the Brain এর এরকম প্রচুর উদাহরণ আছে। যা আমাদের আশেপাশে একটু খেয়াল করলেই লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতপক্ষে এটা মানুষের স্বভাবগত একটি বৈশিষ্ট্য। তাই স্বভাবতই আমি / আপনি / আমরা সবাই নিজেদের অজান্তেই নিত্যদিন এরকম বিভিন্ন ঘোলাটে সত্য প্রকাশ করে থাকি; যার পিছনে লুকায়িত থাকে বড় একটি মিথ্যা।

Share:

Saturday, June 25, 2022

সুখী থাকতে Plain Living & High Thinking কেন জরুরি?

পদ্মা সেতুর প্রখ্যাত একজন প্রকৌশলী ও প্রধান পরামর্শক মরহুম ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের একটা সাক্ষাৎকার দেখতেছিলাম। তিনি কোনো এক কথা প্রসঙ্গে একটি লাইন বলেছিলেন- 

"Plain living and high thinking are no more"  

পরে জানতে পারলাম, লাইনটি আজ থেকে ২২০ বছর আগে বিখ্যাত ইংলিশ কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর একটি কবিতার মধ্যে বলেছিলেন; যার প্রতিফলন এখনও সুস্পষ্টরুপে বহমান। 

Plain Living বলতে বোঝায়- জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যেকোনো ধরণের কাজে একটা নির্দিষ্ট / পরিমিত পরিমান চাওয়াকে বেছে নিতে হবে। যখন চাওয়ার পরিমাণে কোনো লিমিটেশন থাকে না, তখন কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না; বরং তা প্রচুর অশান্তির কারন হতে পারে। অর্থাৎ একটি সাধারণ জীবনযাপনের জন্য কোনোকিছু যতটুকু হলে প্রয়োজনটা ভালোভাবে মিটে যায় ঠিক ততোটুকুই চাওয়া উচিত।

আর এখানে High Thinking বলতে বোঝায়, অতি সাধারণ জীবন-যাপনের সাথে উচ্চ ও উন্নত চিন্তাভাবনার সমৃদ্ধি ঘটানো। 

এই দুটো জিনিসের কম্বিনেশন করতে পারলেই একটি Happy Life গঠন করা সম্ভব। যা আমাদের মাত্র কয়েক বছরের এই সংক্ষিপ্ত জীবনের জন্য খুবই জরুরী।

মহাত্মা গান্ধী ভালো ভাবেই এই লাইনটি অনুসরণ করতেন। আর হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর পুরো জীবনটাই তো ছিলো সেরকম!

কিন্তু, আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই ঝোঁক থাকে অপরিসীম বিলাসী জীবনযাপনের প্রতি (যত পাই, আরও চাই, এরপরও চাই) এবং চিন্তাভাবনার মান ক্রমেই নিম্নবর্গীতায় রুপান্তরিত হতে থাকে। বিষাক্ত সোস্যাল মিডিয়া, প্রতিহিংসা মূলক রাজনীতি, দূর্ণীতিযুক্ত পেশা এজন্য অনেকাংশে দায়ী।

উলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ১৮০২ সালে হয়তো এজন্যই আফসোস করে বলেছিলেন, Plain living ও High Thinking আর নেই। ২২০ বছর পরে এখনও আমাদের সেই কথাই বলতে হচ্ছে। হয়তো এখন থেকে ২২০ বছর পরেও একই কথাই বলতে হবে..!

Share:

Saturday, June 11, 2022

যে কারনে নিজেকে ভালোবাসা প্রায় অসম্ভব

"নিজেকে ভালোবাসি" - খুবই সহজ ও অতি পরিচিত একটি বাক্য হলেও এটি যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিথ্যা ও আনুমানিক একটি ধারণা মাত্র, যা বেশিরভাগ সময়ই মানুষের স্বাভাবিক চিন্তায় পরিলক্ষিত হয় না। অত্যন্ত বড় একটি সত্য হচ্ছে- অন্য কাউকে ভালোবাসা যতটা সহজ, নিজেকে ভালোবাসা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

কেন কঠিন - সেটি বোঝার জন্য সবার আগে আমরা 'ভালোবাসা' (Love) এবং 'নিজ' বা 'আত্ম' (Self) শব্দদ্বয়কে একটু বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবো। 

আজ আমি অপর মানুষকে ভালোবাসা সম্পর্কে বলবো না। আবার অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নিজ ভালোবাসায় লিপ্ত থেকে স্বার্থপরতা বিশেষণে বিশেষায়িত হতে হবে, এমন কোনো উদ্দেশ্যে নিয়েও বলবো না। কী বলবো সেটা কিছুদূর পড়লেই বোধগম্য হবে।

তাহলে এখন শুরু করা যাক...

'ভালোবাসা' (Love) শব্দটি সবার কাছেই অতি পরিচিত একটি শব্দ। নিজ বা অন্য কোনো ব্যক্তির উপর ভালোবাসা বলতে বোঝায়- সেই ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক সহ সব কিছুতে মঙ্গল কামনা করা এবং অবশ্যই সেই অনুসারে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া। অর্থাৎ স্বেচ্ছায় এমন কোনো কাজ করার কারনে যদি উক্ত ব্যক্তির ঐসব দিক গুলোর একটিতেও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তাহলে বলতে হবে- এই ভালোবাসা শুধুই নাম মাত্র ভালোবাসা। এটা মিথ্যা!

এবারে বলবো- 'নিজ' বা 'আত্ম' সম্পর্কে। 

'নিজ' অতি ক্ষুদ্র একটি শব্দ হলেও এর পরিধি কিন্তু ব্যপক। 'নিজ' বলতে একটা মানুষের বিভিন্ন দিককে ইঙ্গিত করে। 

যেমন-

১. দেহ

২. ব্যক্তিসত্তা / আত্মিক মর্যাদা (মনুষ্যত্ব)

৩. পরিবারের সদস্যদের মর্যাদা (Which are depended on self)

৪. নিজের কর্মকান্ডের উপর সামাজিক প্রভাব / দৃষ্টিভঙ্গি 

সবার আগে ১ ও ২ নং পয়েন্ট এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে মূল অংশে যাবো। 

এখানে, ১ নং পয়েন্টে 'দেহ' বলতে একটা মানবদেহের ছোট-বড় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কে বোঝায়। সেটা হতে পারে চোখ, মুখ, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদান্ত্র ইত্যাদি। এমনকি সেটা হতে পারে আমাদের জননাঙ্গ; হতে পারে সেটা যেকোনো ধরনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোষ। অর্থাৎ ৩৭.২ ট্রিলিয়ন কোষ সমৃদ্ধ একটা হিউম্যান বডির যেকোনো অংশকেই এই 'দেহ' বোঝাবে।

এবারে আসি ২নং পয়েন্টের 'ব্যক্তিস্বত্তা' বা 'আত্মিক মর্যাদা' নিয়ে। একটি মানুষকে কিন্তু আমরা তার সুঠাম দেহ ও বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে সর্বাঙ্গীণ বিচার করি না। একজন মানুষ অন্যদের কাছে আন্তরিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তার আত্মিক মর্যাদা বা মনুষ্যত্ব সবচেয়ে বেশি জরুরি।

এখন নিজেকে ভালোবাসার প্রথম যে বিষয়টি বলেছিলাম, সেটিতে আবার ফিরে আসি। অর্থাৎ দেহকে ভালোবাসা।

আমি যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি আপনার দেহকে ভালোবাসেন? তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই 'হ্যাঁ' বোধক উত্তর আসার সম্ভাবনা। কিন্তু আমি বলবো এটা 'হ্যাঁ' বোধক মনে হলেও এর মধ্যে যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে।

নিজ দেহকে ভালোবাসার শর্তটি ছিলো- দেহের কোনো অঙ্গের ক্ষতি হবে এমন একটি কাজও জেনে শুনে ইচ্ছাকৃত ভাবে না করা।

কিন্তু দেখা যায় প্রতিনিয়ত আমরা সবকিছু জানা স্বত্বেও বিভিন্নভাবে নিজ দেহের ক্ষতি করে যাচ্ছি। তন্মধ্যে কয়েকটা উদাহরণ দেই। 

প্রথমেই একজন ধূমপায়ীকে নিয়ে একটু কথা বলি। তিনি তো শুধুমাত্র কয়েক মুহুর্ত মরিচীকাময় একটু তৃপ্তির লক্ষ্যে দুই ঠোঁটের মাঝে সিগারেটের শলাকা চেপে প্রতিনিয়ত ধূম টেনে যাচ্ছেন; আর দিন দিন নিজের ফুসফুসকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। অথচ তিনিও বলেন, 'আমি নিজকে ভালোবাসি। তিনি যদি নিজকেই ভালোবাসেন তাহলে নিজকে কেন স্ব-ইচ্ছায় দীর্ঘমেয়াদি আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যাবেন?

আবার, বর্তমান সমাজে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি বদ অভ্যাস আছে; যেটি নিয়ে বললে অনেকের কাছেই লজ্জাজনক বা বিব্রতকর মনে হতে পারে। তারপরও আমি মনে করি, এটি নিয়ে বলা উচিত। কারন আমরা সাময়িক কয়েক মুহুর্ত শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তির লক্ষ্যে দেহের এমন একটি বিশেষ অঙ্গের সাথে অবিচার করি, যে কাজ ধীরে ধীরে একটা মানুষের ভবিষ্যৎ প্রজনন ক্ষমতাকে নষ্টের দিকে ধাবিত করে। পরিপূর্ণ নষ্ট না হলেও শারীরিক ভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

হ্যাঁ, আমি ঐ শব্দটি নিয়েই বলতেছি, যা আপনি ভাবতেছেন! যেটার শুরুতে 'হস্ত' ও শেষে 'মৈথুন' রয়েছে। এটি এমন-ই একটি শব্দ যা মানুষের মুখে উচ্চারিত হয় খুবই কম, কিন্তু এই শব্দের প্রাকটিক্যাল ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। 

তাহলে জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ কেন আমরা করেই যাবো, যেটা আমাদের দেহ ও জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিবে? অথচ তারপরও আমরা মনে করি, আমরা নিজেকে ভালোবাসি!

নিজ দেহকে ভালোবাসা নামের অবিচারের এরকম আরও অনেক কর্মকাণ্ড বা অঙ্গ নিয়ে বলা যায়। আমি শুধুমাত্র দুটি উদাহরণ টেনেই বাকীগুলোর ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করলাম।

এবারে নিজকে ভালোবাসা বা Self Love এর ২নং পয়েন্ট- 'ব্যক্তিসত্তা' বা 'আত্মিক মর্যাদা' নিয়ে কথা বলা যাক।

সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন এবং তাদের রয়েছে নানান ধরণের কাজের দায়িত্ব। আর একজন মানুষের দ্বারা সম্পাদিত যেকোনো কাজই তার 'আত্মিক মর্যাদা' নামক মানদন্ডকে ধীরে ধীরে গড়তে থাকে৷ 

একজন শিক্ষক যদি তার শিক্ষার মধ্যে কোনো অনৈতিকতা ঢুকিয়ে ফেলেন তাহলে তার এই মানদন্ড সেই অনুসারেই গড়তে থাকবে। বর্তমানে কিছু কিছু শিক্ষকদের দেখা যায়, তারা শিক্ষাকে এমন কিছু অনৈতিক কর্মকান্ডের অস্র হিসেবে ব্যবহার করেন, যা সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের বোধগম্যের বাহিরে থাকে। 

হয়তো তিনি ঐ কর্মকান্ড থেকে সাময়িক কিছুটা লাভবান হচ্ছেন, কিন্তু সেটা কি তার আত্মমর্যাদা থেকে অনেক বেশি? তার আত্মমর্যাদা মানেই তো তিনি নিজে, তাই না? তাহলে তিনি কিভাবে নিজেকে ভালোবাসেন? তিনি হয়তো শুধু নিজ দেহকেই ভালোবাসেন!

এটা কি শুধুমাত্র শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই? মোটেও না। 

আমি মাত্র কয়েকটা উদাহরণ দেই।

- কিছু কিছু ডাক্তার তার চিকিৎসা বিদ্যা দিয়ে রোগীদের এমনভাবে প্রতারিত করছেন, যার প্রভাব বুঝতে গেলে উক্ত রোগীর আবারও প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ 

- কিছু কিছু পুলিশ 'মানবতাই সেবা' নামক পবিত্র একটি ট্যাগকে ব্যবহার করে সাধারণ জনগণের সাথে এমন নিকৃষ্ট কাজে লিপ্ত হয়, যাতে তার 'মনুষ্যত্ব ' নামক বিশেষন মাঝেমধ্যে 'পশুত্ব' বিশেষনে পরিণত হয়। 

- একজন রাজনীতিবিদ 'রাজার নীতি' নামের খুব দামী একটি ট্যাগ ব্যববার করেন। কিন্তু তিনি করেন কী? একটুখানি পরিচিতি, একটুখানি অর্থবিত্তের মোহ, একটুখানি প্রভাব-প্রতিপত্তির অংশীদার হওয়ার জন্য তাকে কতই না অভিনয়ের ছল-চাতুরীতে অংশ নিতে হয়! জেনে বুঝেও অযোগ্য কোনো মানুষকে কতই না মিথ্যা প্রশংসার সাগরে ভরপুর করে দিতে হয়। আর নিজের নামে 'জনপ্রিয়', 'জনদরদী', 'দেশবন্ধু', 'সৎ, 'নিষ্ঠাবান' নামক কতই না ট্যাগ লাগিয়ে দেন, যার বিন্দুমাত্রও তার মধ্যে নেই। খোঁজ নিলে দেখা যায় এগুলোর বিপরীত ট্যাগগুলো সবই তার মধ্যে আছে।

তিনিও কিন্তু ভালো করেই জানেন, এসব ট্যাগ বা নেতাদের মিথ্যা প্রশংসার অধিকাংশই অভিনয়, এটা শুধুমাত্র একটা সিস্টেম। 

অথচ এই লোকরাও মনে মনে দাবী করেন, তারা নাকি নিজকে ভালোবাসেন। নিজ পরিবারকে ভালোবাসেন।কিভাবে? কিভাবে সম্ভব? 

নিজের কথাকে, নিজের কর্মকান্ডকে ধূলির সাথে মিশিয়ে যাচ্ছেতাই কাজে জড়িত হওয়ার পরেও যদি বলেন 'আমি নিজকে ভালোবাসি', তা কিভাবে সম্ভব? এতে তো মনে হয় সেই মানুষটি শুধুমাত্র একটা 'দেহ' দিয়েই গঠিত। আর কিছুই তার মধ্যে নেই।

Self Love বা নিজকে ভালোবাসার ৪ ও ৫নং পয়েন্ট অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের মর্যাদা এবং সামাজিক প্রভাব উভয়ই নিজ কর্মকান্ডের উপর নির্ভর করে। এজন্য দেহ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নয়।

একজন ঘুষখোর মনে করেন, তিনি নিজের স্বার্থে ও পরিবারের সদস্যদের উপকার এর জন্য ঘুষ খাচ্ছেন। কিন্তু এটা কি মোটেই সঠিক? তার সন্তান বা স্বজনরা ঘুষের টাকা দিয়ে যতই বিলাসি জীবনযাপন করুক সে তো একজন ঘুষখোরের সন্তান। ঐ সন্তানের 'বাবা' পরিচয় কে তো তিনি দূষিত করে দিয়েছেন। তাহলে তিনি কিভাবে নিজ পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসেন? 

আবার একজন সুদখোর নিপিড়ীতদের কাছ থেকে সুদ নিতে নিতে হয়তো প্রচন্ড বিলাসবহুল একটা লাইফস্টাইলেই চলে যান। কিন্তু সমাজের লোকজন সামনে ভালো ব্যবহারের অভিনয় করলেও পিছনে তো ঠিকই 'সুদখোর' বলে গালি দিচ্ছে।

তো এই গালির জন্য দায়ী কে? সেই সুদখোর স্ব-ইচ্ছায় ই তো নিজেকে সুদের সাথে জড়িত করে নিজ সামাজিক মর্যাদাকে নষ্ট করলেন।

নিজের পরিচয়কে নিজে বিষাক্ত করেও যদি তিনি বলেন, "আমি নিজেকে ভালোবাসি। নিজ পরিবারকে ভালোবাসি।" তাহলে সেটা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য হবে?

অতএব, নিজেকে ভালোবাসা এতো সহজ কোনো কথা নয়। যেকোনো উপায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া, সুঠাম দেহের অধিকারী হওয়া, পরিবারের সদস্যদের বিলাসবহুল লাইফস্টাইল উপহার দেয়া, আর সর্বদা চাটুকারদের মিথ্যা প্রশংসার বাক্য শুনতে পারা মানেই নিজেকে ভালোবাসা নয়। 

নিজকে ভালোবাসতে হলে সম্পূর্ণ দেহের কোনো একটি অঙ্গের বিন্দুমাত্র মঙ্গল লঙ্ঘন হবে এমন একটি কাজও স্বজ্ঞানে করা উচিত হবে না। আর সেই দেহের কোনো অঙ্গ দিয়ে (যথাসম্ভব) একটি কাজও করা যাবে না, যেটি নিজের মনুষ্যত্ব, পরিবারের সদস্যদের মর্যাদা ও সামাজিক মর্যাদা -কে বিনষ্ট করে। তাহলেই নিজেকে ভালোবাসা সম্ভব হবে। 

নিজেকেই যদি সঠিকভাবে ভালোবাসতে না পারা যায়, তাহলে আবার কিভাবে অন্যদের ভালোবাসা যাবে?!

Share:

Tuesday, June 7, 2022

ফেসবুক বাজারে বহুরুপী মানুষের বিকৃত মস্তিষ্কের চিত্র

"What's on your mind?" - "আপনার মনে কী চলছে?" বিখ্যাত এই বাক্যটি দিয়েই পৃথিবীর ২৯৩+ কোটি ফেসবুক ইউজারদের মার্ক জাকারবার্গ সর্বক্ষণ অনুরোধ করে যাচ্ছেন- "অন্তত একটি হলেও পোস্ট করুন।"

আর বেড়িয়ে আসতে থাকে, সমাজের বহুরূপী রুচির মানুষের সাব-কনসাস মাইন্ডে গচ্ছিত থাকা অধিকাংশ-ই রুচিহীন ও স্বল্পকিছু রুচি সমৃদ্ধ চিন্তাভাবনা বা কর্মকাণ্ড।

যেমন, এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু কিছু ৩৫+ ভদ্রলোকদের থেকেও এমন আন-সোশ্যাল কর্মকাণ্ড দেখতে হচ্ছে, যা শুধুমাত্র ১০-১৫ বছরের উড়নচণ্ডী কৈশোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত ছিলো।

আবার, ১৫+ কিশোর-কিশোরী যেভাবে ভার্চুয়াল জগৎ কন্ট্রোল করছে, তাতে তাদের মস্তিষ্কের চরম বিকৃতি ও ভয়াবহতা প্রমাণ করে।

যেসব তরুনী প্রকৃতি প্রদত্ত স্ব-সৌন্দর্যের স্বস্তা প্রদর্শনে তৃপ্তি পায় তাদের আচরণ ও মানসিকতার বিকৃতি এবং অবস্থার ভয়াবহতার খবর তো তাদের কাছে জেনেও না জানার মতো। 

আর কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা সাময়িক কিছু স্বার্থ হাসিলের জন্য দলীয় অন্ধ ভক্ত হয়ে এমনভাবে মিথ্যা প্রশংসা ও কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকেন, মনে হয় যেন তাদের ব্যক্তিত্ব / পেশা / পরিবার / সমাজিক মর্যাদা ঐসব স্বার্থান্বেসী কর্মকান্ডের সামনে কিছুই না! 

উপরোক্ত সব ধরণের মানুষই সাময়িক কিছু লাভ / তৃপ্তি / স্বার্থের জন্য নিজের মূল্যবান ব্যক্তি স্বত্বা-কে স্বস্তায় বিলিয়ে দিতে একটুও দ্বিধা বোধ করে না। অথচ প্রতিটি মানুষ-ই সৃষ্টির সেরা। 

তাদের বিবেকে এক বিন্দুও নাড়া দেয় না যে, ফেসবুক এমন একটা প্লাটফর্ম যেখানে ১০ থেকে ৬০ বছরের মোট ৫০ ধরণের ভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছেন, যাদের চিন্তা-চেতনা ও বিবেচনায় রয়েছে ৫০,০০০ এর চেয়েও বেশি বৈচিত্রতা (just an example)।

পানির রঙ যেভাবে ভিন্ন ভিন্ন পাত্রে ভিন্ন আকার ধারণ করে, তেমনি এখানেও একটি বাক্য লেখা হলে বা একটি কাজ করা হলে, একেক মানুষের মস্তিষ্কে একেক অর্থের উৎপত্তি ঘটাবে। যেমন এই পোস্টটি আপনি যেভাবে নিচ্ছেন, অন্য জন অবশ্যই একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখবে। 

তাদের বিবেকে নাড়া না দেয়ার অন্যতম একটি কারন হতে পারে- নিজের সার্বিক কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র আশেপাশের কয়েকজন (ফেইক) শুভাকাঙ্ক্ষী দিয়েই বিচার করা, যারা সর্বক্ষণ মিথ্যা প্রশংসায় লিপ্ত থেকে সেই ব্যক্তিকে আরও বিকৃত মানসিকতায় পরিণত করে ফেলে।

ফেসবুক আইডিতে যদি Post Reached অপশনটা থাকতো, তাহলে বোঝা যেতো, একটা পোস্ট যে পরিমান মানুষের কাছে পৌঁছায় তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক মানুষই পোস্টটিতে রিয়্যাক্ট বা কমেন্ট করে। অধিকাংশ মানুষ-ই পোস্ট এর উপরিভাগ থেকে আবছা একটা ধারণা নিয়ে অন্য পোস্টে চলে যায়। 

তাই পোস্টদাতার আর বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে, তার মস্তিষ্ক স্বাভাবিক মানুষদের থেকে কতটা বিচ্যুত। কারন, সে তো গুটিকয়েক (ফেইক) পজেটিভ কমেন্ট ও রিয়াকশন দিয়েই সম্পূর্ণ ফ্রেন্ডলিস্টকে নিজের অস্বাভাবিক কর্মকান্ডের অনুকূলে ভাবতে থাকে। 

তবে যাই-ই বলি না কেন, আমি নিজেও অস্বাভিকতার বাহিরে নই। হয়তো সেই অস্বাভিক কর্মকাণ্ড গুলো আমার কাছে ধরা পরছে না; যেমনি ভাবে আমি নিজে আমার চেহারা দেখতে পাই না। দেখার জন্য আয়না দরকার। কারও সম্ভব হলে সেই আয়না-টি আমার সামনে মাঝেমধ্যে ধরে উপকৃত করবেন।

So, What's on your mind? ফেসবুক কিন্তু এই বাক্য দিনের পর দিন বলেই যাবে। কার ব্যক্তিত্বের কি বিচ্যুতি বা অবনতি ঘটছে সেটা তো তার দেখার বিষয় না; কারন তাদের তো এসবের মাধ্যমেই প্রতি মুহুর্তে মিলিয়ন বিলিয়ন আর্থিক স্বার্থ উদ্ধার হচ্ছে...

Share:

Thursday, June 2, 2022

আমাদের মস্তিষ্কের দাম নির্ণয়ের কোনো উপায় আছে কি?

ছোটবেলা থেকেই আমরা একটা কথা শুনে আসছি- মানুষের মস্তিষ্ক নাকি অনেক দামী, অমূল্য; এর অপরিসীম ক্ষমতা -এরকম অনেক কিছু।

কিন্তু সেটা কিভাবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা বাস্তব বা প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই না বুঝে বিশ্বাস করার মতো একটা ব্যাপার ছিলো।

যেমন, আমরা বিশ্বাস করি, "শিক্ষাই দারিদ্র বিমোচনের মূল অস্ত্র।" কিন্তু শিক্ষা কিভাবে দারিদ্রতা দূর করে, সেটা সরাসরি অনেকেই জানি না, বা জানার চেষ্টা করি না। সচারাচর দেখা যায়, শিক্ষিতদের চেয়ে ব্যবসায়ীরাই বেশি অর্থবিত্তের অধিকারী। অথচ তারপরও শিক্ষাকে দারিদ্র্য বিমোচনের অস্ত্র হিসেবেই আমরা চোখ বুঝে মেনে নিই। আমরা কিন্তু কখনোই বলি না যে, "ব্যবসা দারিদ্র বিমোচনের অস্ত্র"। 

তেমনি ভাবে কোনো চিন্তাভাবনা না করেই মস্তিষ্ককে মেনে নিই দেহের সবচেয়ে মূল্যবান অঙ্গ হিসেবে।

কিন্ত আমার প্রশ্ন হচ্ছে, "মস্তিষ্ক, মাত্র ১৩৬৬ গ্রাম (male) ওজনের খুবই ছোট একটি জিনিস, সেটাকে এত মূল্যবান কেন বলা হয়? আমাদের এত বড় একটা দেহে হাত, পা, কিডনি, হার্ট সহ আরও কত অঙ্গ আছে। সেগুলোকে তো এতোটা মূল্য দেয়া হয় না। 

এই বস্তুটার এতোই দাম যে , আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর তাঁর মস্তিষ্ক নাকি চুরি পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিলো। অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর কারন বের করার দায়িত্বে ছিলেন- ডা. হার্ভি নামে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক। তিনি কৌতূহল বশত (আইনস্টাইনের পরিবারের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্তেও) ইতিহাস সৃষ্টিকারী একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি আইনস্টাইনের মস্তিষ্ককে মাথা থেকে পৃথক করে কেঁটে ২৪০টি ব্লকে ভাগ করে ১০০০ এর বেশি স্লাইড তৈরি করে পৃথিবীর বিভিন্ন গবেষকদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এই গবেষণাও এটাই প্রামাণ করে যে, মস্তিষ্ক আসলেই দামী একটা কিছু। 

আচ্ছা, বুঝলাম, আইনস্টাইন পৃথিবীর কিংবদন্তি মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন, তাই হয়তো তাঁর মস্তিষ্ক নিয়ে এতো কৌতূহল। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের মস্তিষ্ককে কিভাবে দামী বলবো? আমরা তো আজ পর্যন্ত তেমন কিছুই আবিষ্কার করলাম না, বা তেমন বিশেষ কিছু করার চেষ্টাও করি না। তাহলে আমাদের মস্তিষ্কের কি কোনোই মূল্য নেই? 

এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়েই আজকের এই লেখা। আমাদের মস্তিষ্কের মূল্য আছে, নাকি নেই সেটা বলার আগে কয়েকটা তথ্য দেই। 

আমি যদি আপনাকে বলি, আপনার মস্তিষ্ককে প্রতিদিন মাত্র কয়েক মুহূর্ত ভাড়া নেয়ার জন্য পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ টোপ পেতে বসে আছে। 

অন্য কারও মস্তিষ্ক না, আপনারটা-ই। 

তাহলে কি আপনি বিশ্বাস করবেন? 

বিশ্বাস না করার-ই কথা।

আপনি যদি আমার লেখাটার এই পর্যন্ত পড়েই থাকেন, তাহলে আমি বলবো- আপনিও কিন্তু আমার বড়শীর টোপে আটকে গেছেন। আপনার মস্তিষ্ককে কিন্তু এই মুহুর্তে আমি-ই নিয়ন্ত্রণ করতেছি!

হা-হা-হা, অবাক লাগছে! তাই না?

আচ্ছা, আর একটু ভেঙ্গে বলি। আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে যদি ৫০০ জন ফ্রেন্ড থাকে, তাদের মধ্য থেকে যদি দিনে মাত্র ৫০ জনও কোনো স্ট্যাটাস দেয়, তাহলে সেই ৫০ জনই কিন্তু আপনার মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কারন সবার স্ট্যাটাস এর পিছনেই একটা প্রধান উদ্দেশ্য থাকে- এটি যেন বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং বেশি মানুষ পড়ে / রিয়াকশন দেয় / কমেন্ট করে। 

শুধু আপনার বন্ধু-বান্ধব ই যে এই কাজ করে যাচ্ছে এমনটা কিন্তু নয়। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আপনার পিছনে লেগে আছে। 

তো, সেটা কিভাবে?

আপনি ইউটিউবে যে ভিডিও দেখেন, সেখানে মাঝেমধ্যে যে অ্যাড (বিজ্ঞাপন) গুলো আসে, সেই অ্যাড এর পিছনে কোম্পানির মালিকরা কী পরিমান টাকা খরচ করেন সে সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে কি? 

জেনে অবাক হবেন, শুধুমাত্র গ্রামীণফোন-ই ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মাত্র ৫ বছরে অনলাইন বিজ্ঞাপনের পিছনে ৪৩ কোটি ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২৯ ডলার (টাকা না কিন্তু, অ্যামেরিকান ডলার; বর্তমানে ১ ডলার = ৮৯.১০ টাকা) খরচ করেছে। 

এরকম দেশ বা পৃথিবীর ছোট-বড় প্রায় সব কোম্পানিই আপনাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড ধরে একটা বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য আকুল হয়ে বসে আছে। 

আপনার হয়তো মনে হচ্ছে, এই টাকা তো তারা একসাথে সবার পিছনেই খরচ করছে। আমার একার পিছনে তো করে না। 

কিন্তু বিষয়টা আসলে এমন না। এরা সবার পিছনে টাকা খরচ করতেছে মনে হলেও, তারা কিন্তু প্রতিটি মানুষকে আলাদাভাবেই টার্গেট করার চেষ্টা করে। আপনি কখন কী পছন্দ করেন, আপনার এখন কোন জিনিসটা দরকার তা কিন্তু আপনার চেয়েও তারা ভালো জানে।

ধরুন, কোনো একটা কোম্পানি ১০০ জন মানুষের কাছে একটা বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেয়ার প্লান করলো। সেজন্য তারা ২ হাজার টাকা খরচ করলো। তাহলেও কিন্তু আপনার পিছনে তারা গড়ে ২০ টাকা খরচ করলো। 

এভাবে একইসাথে অন্য ধরণের কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান গুলোও তো খরচ করতেছে। এভাবে যদি ৫০০টি কোম্পানিও খরচ করে তাহলে কিন্তু দৈনিক আপনার পিছনে ১০ হাজার টাকা কেউ না কেউ খরচ করে চলছে। 

এটা তো বোঝার সুবিধার্থে ছোট একটা এক্সাম্পল মাত্র। কিন্তু আমার মনে হয় বাস্তবে একজন মানুষের পিছনে পৃথিবীর সবগুলো কোম্পানি গড়ে দৈনিক কোটি কোটি টাকা খরচ করে।

কিন্তু এতে তাদের লাভ কী?

লাভ হলো সেটা-ই। অর্থাৎ আপনার মস্তিষ্ক-কে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভাড়া নিয়ে আপনার সম্পূর্ণ দেহকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা। কারন আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে যে নির্দেশ দিবে আপনি কিন্তু ঠিক সেটাই করবেন।

আপনি একটা কলম কিনেন, বা একটা গাড়ি কিনেন, অথবা, কারও কথায় মুগ্ধ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ডিসিশন নিলেন - সবই কিন্তু ঐ মস্তিষ্ক-ই নিয়ন্ত্রণ করতেছে।

তাই কোম্পানি বা যেকোনো প্রতিষ্ঠান ভালো করেই জানে, আপনার মস্তিষ্ককে যদি কোনো ভাবে এক মুহুর্তের জন্যও নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায় তাহলে আপনার পকেট থেকে বিশাল কিছু চোখের অগোচরেই নিয়ে নেয়া সম্ভব।

তাহলে এখনও বলবেন আপনার মস্তিষ্কের তেমন দাম নেই? 

যদি দাম না-ই থাকে তাহলে এত টাকা তারা কী জন্য খরচ করতেছে?

আসলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের মস্তিষ্কেরও অনেক দাম। অপরিসীম দাম। কিন্তু আমরা সেটা সহজে আদায় করে নিতে পারি না। মস্তিষ্কের দাম বাড়ানোর জন্য কোনো কাজ করা শুরু করলেই ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিভিশন, ক্রিকেট, ফুটবল, আড্ডা-বাজি সবকিছু এসে বাঁধা দেয়া শুরু করে, আর তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়।

মূলত আমাদের মস্তিষ্কের রাজ প্রাসাদ থেকে ধন-সম্পদ গুলো প্রতিদিন এরকম হাজারো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছিনতাই করে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। তাই আমাদের মস্তিষ্কের দাম আর বাড়ে না। 

আচ্ছা, আপনি আইনস্টাইনের ছবি দেখলে কি চিনতে পারবেন? আমি বলবো- 'না'। 

আমি শিওর, আপনি কাজী নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ুন আহমেদ এরকম কোনো বিখ্যাত মানুষকেই চিনবেন না। 

কী?! আমাকে বোকা মনে হচ্ছে?

আসলে আমরা আইনস্টাইনকে যে 'আইনস্টাইন' হিসেবে চিনি, তা কিন্তু তাঁর মাত্র ১২৩০ গ্রাম ওজনের মস্তিষ্কটার কারনেই। (তাঁর মস্তিষ্কের ওজন সাধারণ পুরুষদের চেয়ে একটু কম ছিলো।) তাঁর সুদর্শন দেহ, গোঁফ বা পোশাক বা এরকম কিছুর জন্য কিন্তু তিনি আপনার কাছে পরিচিত হননি। তাঁর মস্তিষ্কের অভূতপূর্ব কাজের জন্যই আমরা তাঁর অন্য সবকিছু চিনেছি।

তাই শেষ কথা হচ্ছে, কোটি কোটি টাকার চেয়েও বেশি মূল্যবান- নিজের মস্তিষ্ককে ভালোবাসতে চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখুন, 'মস্তিষ্ক' নামের আপনার এই রাজপ্রাসাদের সম্পদ গুলো অন্য সবাই একেবারে লুটপাট করে যেন শেষ করে না দেয়! আপনি-আমি সবাই-ই এই লুটপাটে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছি।


References:

Grameenphone, Robi, Banglalink pay Tk 87b online ads | Prothom Alo

আইনস্টাইনের ব্রেইন চুরির গল্প! - 10 Minute School Blog

আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক অন্যরকম? | প্রথম আলো (prothomalo.com)

Human brain - Wikipedia

Share:

Saturday, March 19, 2022

ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও কিছু মানুষ কেন কখনোই মিশুক হতে পারে না?


লিখেছিঃ ২০২১ এর ২৩ জুলাই

লেখার স্থানঃ গাবতলী, বেতাগী, বরগুনা 


তুন কারও সাথে কথা বলা শুরু করার পরে ক্লোজ হওয়ার জন্য দুজনেরই একটা বাঁধা অতিক্রম করতে হয়; যাকে বলে 'আইস ব্রেকিং স্টেইজ' (Ice Breaking)। এটা যেকোনো ধরণের মানুষের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে; যেমনঃ বন্ধু-বান্ধবী / আত্মীয়-স্বজন / শিক্ষক-ছাত্র / অন্য কেউ।

কোনোভাবে এই স্টেইজটা পার হয়ে গেলেই কথা বলতে কারও মধ্যে আর কোনো হীনমন্যতা কাজ করে না, নির্দ্বিধায় যেকোনো কিছু বলে ফেলা যায়। উভয়ে কথা বলতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, দুজনের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক দৃঢ় হয়ে যায়।


কিন্তু আইসব্রেকিং মোমেন্ট'টা একেবারে সহজ কোনো বাঁধা না। কেউ কেউ মুহূর্তের মধ্যেই এটা অতিক্রম করে ফেলতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলার পরেও আইস আর ব্রেক হতে চায় না।


সাধারণত যারা একটু ইন্ট্রোভার্ট (Introvert) ন্যাচারের (মানে- কম কথা বলে, যা কিছু বলে অনেক ভেবে-চিন্তে বলতে হয়) তাদের ক্ষেত্রে এই আইস ব্রেকিং জোন পার হওয়াটা খুবই কঠিন।


তারা কারও সাথে কথা বললে- "কেমন আছেন?", "বাসার সবাই কেমন আছে?", "কোথায় যাচ্ছেন?" -এই টাইপের কিছু সেনটেন্স এর বাহিরে আর তেমন কিছুই বলতে পারে না। অর্থাৎ তাদের জন্য নতুন কারও সাথে ক্লোজ হওয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দেখা যায়- একেবারে সুপরিচিত গুটিকয়েক জন বাদে তারা অন্য কারও সাথে মাত্র ৩/৪ টি সেনটেন্স এর বাহিরে আর কিছুই বলতে পারে না। অধিকাংশ কথা মনের ভিতরেই থেকে যায়, আর প্রকাশ করা হয় না। অথচ তারা যে কথা বলতে চান না, বিষয়টা কিন্তু এমনও না। তাই তাদের জন্য কারও সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে অনেক সময় লাগে।


ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এই টাইপের মানুষদের সাথে অধিকাংশ মানুষের একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ সৃষ্টি হয়ে যায়। এসব মানুষকে সবাই একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে। কেউ কেউ মনে করে- "এরা বেশি কথা বলে না, তার মানে তারা সবসময় ডন্ট কেয়ার মুডে থাকে। অহংকার / হিংসা বেশি।"


আসলে ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যায়, তারা ফেইস টু ফেইস কমিউনিকেশনে ন্যাচারাল ভাবেই একটু উইক থাকে। চেষ্টা করা স্বত্বেও ভালোভাবে পেরে উঠে না।
অথচ, সবাইকে যে সব বিষয়ে এক্সপার্ট থাকতে হবে এরকম কোনো নীতিমালাও নেই। দেখা যায়, কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা ফ্লুয়েন্টলি উঁচু গলায় বক্তৃতা দিয়ে যেতে পারে, অথচ মাত্র ১০টা লাইন শুদ্ধ বাংলা লিখতে পারে না। আবার কেউ হাজার হাজার লাইন প্রমিত ও সাবলীল ভাষায় অর্থবহ বাংলা / ইংলিশ লিখে যেতে পারলেও, ১০ জনের সামনে স্পষ্টভাবে ২ মিনিট কথা চালিয়ে যেতে পারে না।

তাই এটা সবারই মেনে নেয়া উচিত যে, সৃষ্টিকর্তা সবার মধ্যে সব গুণাবলি দিয়ে দেন না। আর কাউকে গুটিকয়েক কাজ বা কথাবার্তা দিয়েও বিচার করা ঠিক না। তার যোগ্যতার প্রকৃত সীমা যাচাই করতে সর্বাঙ্গীণভাবে বিচার করা উচিত।
অথচ, সমাজের কথিত কিছু জ্ঞানী মানুষও ভুল উপায়ে মানুষ যাচাই করে যাচ্ছে...

Share:

Thursday, March 17, 2022

মৃত্যুকে নিজের ক্ষেত্রে সত্য মনে হয় না কেন?

মরা সবাই-ই জানি, 'মৃত্যু' একটা অবশ্যম্ভাবী সত্য। কিন্তু তারপরও এটিকে সত্য বা যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে - এমন মনে হয় না কেন?

অর্থাৎ আমরা সবাই-ই এটা ১০০% বিশ্বাস করি, কিন্তু মৃত্যু যে ১ সেকেন্ড পরেও ঘটতে পারে, বা এই লেখাটি পড়ে শেষ করার আগেই আপনার মৃত্যু এসে যেতে পারে - এমন মনে হয় না কেন?

আমি কিছুটা চিন্তাভাবনা করে একটা কারন বের করার চেষ্টা করেছি। আর এর সাথে কিছু সমাধানও দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। তবে আমার জানার বাহিরে আরও বিভিন্ন কারন থাকতে পারে। সেরকম কোনো কারন / সমাধান আপনার জানা থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন।

এবারে বলি, আমার ধারণামতে সেই কারনটি কী হতে পারে?

আসলে আমরা জন্মের পর থেকে প্রতিটি দিন বা রাত-ই পরিপূর্ণ ভাবে পেয়েছি। একটু চিন্তা করে দেখেন, যার বয়স এখন ২০, সে (আনুমানিক) ৭,৩০০ টি দিন পেয়েছে। আর এতগুলো দিনের প্রতিটির শেষেই সে বেঁচে ছিলো। অর্থাৎ ৭,৩০০ বার তার মস্তিষ্ক একটা রেজাল্ট-ই পেয়েছে; যে- ২৪ ঘন্টার দীর্ঘ একটা দিনের পর বেঁচে থাকা সম্ভব।

এই একই আউটপুট বার বার পেতে পেতে আমাদের অবচেতন মন (Subconscious Mind) ধরেই নিয়েছে যে- আগামীকালও আমরা আগের দিনগুলোর মতোই বেঁচে থাকবো।

আরেকটু সহজ করে যদি বলি,
কোনো কিছু খাওয়ার সময় আমাদের কি মনে করে নিতে হয় যে এটি 'মুখ' দিয়ে খেতে হবে? নাকি 'নাক' দিয়ে? খাবার হাতে নিলেই তো সেটা স্বয়ংক্রীয়ভাবে মুখের দিকে চলে যায়।

অর্থাৎ জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে মুখ দিয়ে খাওয়ার সিস্টেমটি একবার শিখে নেয়ার পর লক্ষ লক্ষ বার একই কাজ করতে করতে এখন আমাদের মস্তিষ্ক ধরেই নিয়েছে যে- হাতে কোনো খাবার নিলেই সেটা মুখের দিকে নিয়ে যেতে হবে৷ তাহলেই সেই খাবার পরিপাক / হজমের দিকে চলে যাবে।

তো, জন্মের পর থেকে আমাদের তো এখন পর্যন্ত একটি বারও মৃত্যু হয়নি। তাহলে কিভাবে মস্তিষ্ক সব সময় ধরে নিবে যে এটা যেকোনো সময় ঘটতে পারে?!

অর্থাৎ, মৃত্যু নামক এই সত্যটি আমাদের মস্তিষ্কে শুধুমাত্র তাত্ত্বিকভাবে (Theoretically) ঢুকিয়ে দেয়া সম্ভব। ব্যবহারিকভাবে (Practically) প্রয়োগ করা প্রায় অসম্ভব।

এখন আমার এই লজিকের বিরুদ্ধেই আপনি একটি 'অ্যান্টি লজিক' দাঁড় করাতে পারেন। সেটি হচ্ছে, মস্তিষ্ক বা সাবকনসাস মাইন্ডকে কোনো কিছু সত্য মনে করাতে হলে যদি সেটি বাস্তবে করিয়েই নিতে হয়, তাহলে আমরা যখন ৫ তলা কোনো বিল্ডিং এর ছাদের কর্ণারে যাই, তখন মনের ভিতর থেকে স্বয়ংক্রীয়ভাবে একটা বাঁধা এসে যায় কেন যে, "ওখান থেকে পরে গেলেই মৃত্যু!" ৫ তলা থেকে লাফ দেয়ার এক্সপেরিয়েন্স তো আমাদের একবারও নেই। তাহলে মস্তিষ্ক এটা কিভাবে বুঝে নিলো?

তাহলে কি এখন বলবেন যে মৃত্যু ভোলানোর পিছনে আমি এতক্ষণ যে কারনটা বললাম সেটি অযৌক্তিক বা ভিত্তিহীন?

না, আমার মনে হচ্ছে- আমার বলা কারন টা ঠিক-ই আছে। তবে এই অ্যান্টি লজিকের উত্তর যদি দিতে হয় তাহলে আর একটু কথা বলতে হবে।

অন্যান্য বিভিন্ন কাজের ফলাফল কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়াই আমাদের অবচেতন মনে রেকর্ড হয়ে গেলেও, ‘মৃত্যু’ নামক ব্যাপারটি যেন আমাদের অবচেতন মনে কোনোভাবেই স্থায়ী হয়ে না যেতে পারে সেজন্য কেউ একজন নিয়মিত কন্ট্রোল করে যাচ্ছে।

আমার ধর্ম- ইসলামের ভাষায় সেটি হচ্ছে ‘ইবলিশ / শয়তান’। অন্য ধর্মে অন্য কিছু হতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায় সেটির কোনো কন্ট্রোলার নাও থাকতে পারে। আবার থাকতেও পারে।

তো, এখন আবার আগের কথাটিতে ফিরে আসি।

আমি বলেছিলাম- মৃত্যু’র ব্যবহারিক প্রয়োগ করে জ্ঞান অর্জন করা অসম্ভব। তবে ব্যবহারিক প্রয়োগ যে একেবারেই সম্ভব না, এমনও নয়। অন্যের মৃত্যু দেখে কিছুটা হলেও ব্যবহারিক এর স্বাদ পাওয়া যায়।

কিন্তু আপনি কোনো ল্যাব ওয়ার্কে যদি শুধুমাত্র অন্যের ব্যবহারিক করাই দেখেন, আর নিজে একটুও না করেন, তাহলে তো সেই এক্সপেরিমেন্ট এর অনেকাংশেই আপনার কাছে অপূর্ণ থেকে যাবে।

তাই বলে মৃত্যু নামক এক্সপেরিমেন্ট সম্পর্কেও পরিপূর্ণ ধারণা নিতে গিয়ে যদি আপনি ব্যবহারিক-ই (Suicide) করে ফেলেন তাহলে তো আর কিছুই থাকলো না। একুল-ওকুল সব-ই যাবে!!!

তাহলে মৃত্যু কে সত্য মনে না হওয়ার সমাধানটা কী হতে পারে? আমরা কি অপ্রস্তুত ভাবেই মৃত্যু নামক এক্সপেরিমেন্ট এর প্রোডাক্ট হয়ে যাবো?

স্কুল কলেজের ছোট-খাটো একটা এক্সামের জন্যও আমরা কত প্রিপারেশন নেই! প্রিপারেশন ছাড়া কোনো এক্সাম মানেই মনে করি খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তাহলে মৃত্যুর মতো এত বড় একটি এক্সাম / এক্সপেরিমেন্ট কোনো রকম প্রিপারেশন ছাড়াই দিয়ে দিবো?

আমার মনে হচ্ছে- কোনো একটা সমাধান অবশ্যই আছে। কারন সবাই তো আর অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুতে পতিত হয় না, কেউ কেউ প্রস্তুত অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ বা মৃত্যুকে বরণ করে নেয়।

আমার ধারণা, সেরকম একটি সলিউশন হচ্ছে- প্রতিদিন এমন কোনো একটা কাজ বার বার করা, যাতে মস্তিষ্ক ও অবচেতন মনকে যেকোনো ভাবে বুঝানো সম্ভব হয় যে ‘মৃত্যু যেকোনো সময় ঘটতে পারে’।

আর, আমি একটু আগে ‘ইবলিশ’ নামক যে ‘মৃত্যু ভোলানো’ একজন কন্ট্রোলার এর কথা বলেছিলাম সবার আগে আমাদের সেটিকে কন্ট্রোল করতে না দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। বরং আমরা যেন ইবলিশ-কে কন্ট্রোল করতে পারি সেরকম কোনো উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

এখন সেরকম কাজ কী হতে পারে?

আমার ধর্ম মতে আমাদের মস্তিষ্ক বানিয়েছেন স্বয়ং 'আল্লাহ'। তো, মস্তিষ্কের এই নির্মাতাই তাঁর বানানো মস্তিষ্ককে আমরা কিভাবে নিয়ন্ত্রন করবো তার পরিপূর্ণ ম্যানুয়াল বা গাইডলাইন আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের প্রতিদিনের রুটিনে সেরকম বিভিন্ন অ্যাকটিভিটিস শিডিউল করে রেখেছেন, যাতে আমরা সেই ‘মৃত্যু ভোলানো’ কন্ট্রোলারকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- আমরা কয়জন মানুষ সেই ম্যানুয়াল অনুসরন করে মস্তিষ্ককে চালনা করি? আমি নিজেও অনেকটাই করি না। আর সেজন্যই তো নিত্যদিন পরিচিত অপরিচিত অনেক মানুষকেই দেখি অপ্রস্তুত অবস্থায় ‘মৃত্যু’ নামক এক্সপেরিমেন্টে পতিত হয়। তাই আমাদের মনও বুঝে নিয়েছে- এতো মানুষ যখন সাধারণ ভাবেই মৃত্যুতে পতিত হচ্ছে, তাই আমাদেরও কিছু হবে না। কারন তারা তো মৃত্যুর পর আমাদেরকে মৃত্যুর অভিজ্ঞতা জানিয়ে যেতে পারছে না।

শেষে এটাই বলবো, আমাদের মস্তিষ্ক / দেহের সেই নির্মাতা সকলকে এই এক্সপেরিমেন্ট এর জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেয়ার সক্ষমতা দান করুক। যাতে মৃত্যুতে পতিত না হয়ে মৃত্যুবরণ বা মৃত্যুকে বরণ করার জন্য আমাদেরকে প্রস্তুত করে, সেই এক্সপেরিমেন্ট এ ভ্যালিড প্রোডাক্ট হিসেবে নিজেদের সপে দিতে পারি।
Share: