Showing posts with label Social Problems. Show all posts
Showing posts with label Social Problems. Show all posts

Monday, March 27, 2023

ফেসবুকের যে Attention Span এর কারনে এখানে পড়াশোনা করা উচিত না
পড়াশোনার জন্য বর্তমান প্রজন্মকে ফেসবুক এর উপর নির্ভরশীল করার ট্রেন্ড কতটুকু লজিক্যাল বা ইফেক্টিভ হচ্ছে?

ফেসবুকে কোনো লেখাতে ... See more লেখা দেখলেই সেটা পড়ার আগ্রহ 100% থেকে 0.1% এ নেমে যায়। অথচ একই লেখাই Quora তে পড়ার জন্য অনেকেরই ভালো আগ্রহ থাকে। এর পেছনে কারনটা হচ্ছে ফেসবুকে আমাদের Low Attention Span. 

আমাদের Attention Span প্রধাণত 4 ধরণের। 
- Sustained Attention 
- Selective Attention 
- Divided Attention 
- Alternating Attention 

ফেসবুকে বেশিরভাগ সময় Divided Attention Span কাজ করে। অর্থাৎ অল্প একটু স্ক্রলিং, হঠাৎ একটা ছবি, অল্প একটু ভিডিও, আবার ফাঁকে ফাঁকে মেসেজ / নোটিফিকেশন তো আছেই। একসাথে সব!

কিন্তু পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার Sustained Attention - যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে একটি মাত্র বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। তো, সেই কাজের অজুহাতে যদি ফেসবুক / মেসেঞ্জার গ্রুপ, বা পেইজের মাধ্যমে রেগুলার কন্টেন্ট দেয়া হয় তাহলে সেটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে? সম্ভবত সেখানে শিক্ষার্থীদের উপকারের পরিবর্তে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থই বেশি থাকে।

তবে হ্যাঁ, ফেসবুক থেকে অন্য প্লাটফর্মে তাড়ানোর জন্য বা একেবারে ব্যাসিক / মোটিভেশনাল কিছুতে ফেসবুক ইউজ করা যেতে পারে।
Share:

Sunday, September 18, 2022

ফেসবুকের জন্য কেন আমাদের ডোপামিন রোজা রাখা জরুরি?

ফেসবুকের অ্যালগরিদম দিন দিন এতোটাই আপগ্রেড হচ্ছে, টাইমলাইনে প্রতিটা মুহুর্ত স্ক্রলিং বা প্রতিটা বাটন প্রেসিং এ আমাদের মস্তিষ্কে যে পরিমাণ ডোপামিন নিঃসৃত হচ্ছে, তাতে এখন আমাদের নিয়মিত 'ডোপামিন রোজা' (Dopamine Fasting) রাখা অনিবার্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

(ডোপামিন হচ্ছে এক ধরণের হরমোন, যা মানুষের আনন্দদায়ক কোনো কাজের সময় মস্তিষ্কে নিঃসৃত হয়। যেমনঃ সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার, গেমিং, ঘুম, প্রিয় খাবার খাওয়া, সেক্স ইত্যাদি।) 

বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা যার যার কন্টেন্টকে এতোটা আকর্ষণীয় করার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে; যার কারনে ইউজাররা নিজের অজান্তেই ঘন্টার পর ঘন্টা বিপুল পরিমাণ ডোপামিন নিঃসৃত করে যাচ্ছে; যা হয়তো অনেক সময় সেক্সুয়াল মোমেন্টেও নিঃসৃত হয় না। 

টেকনোলজি দিন দিন এভাবেই নিজেদের প্রোডাক্ট আপগ্রেড করে যাবে; যাতে মস্তিষ্কে আরও বেশি পরিমাণে ডোপামিনের নিঃসরণ ঘটানো যায়। কারন, ডোপামিন নিঃসরণ - ইউজার ট্রাফিক এর সমানুপাতিক। আর ইউজার ট্রাফিক - পকেটে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সমানুপাতিক। 

কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কের গঠন তো আর টেকনোলজির জেনেরেশনের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হতে পারবে না। বিবর্তনের নিয়ম অনুসারে একটা সময় টেকনোলজির কাছে হার মেনেই যাবে।

তাই এই মহামূল্যবান ডোপামিন রক্ষার্থে এখন আমাদের উচিত ফেসবুক বা অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া থেকে রেগুলার সাময়িক ব্রেক নেয়া, অর্থাৎ 'ডোপামিন রোজা' রাখা। অ্যামেরিকার অনেকেই এই ডোপামিন রোজা (Dopamine Fasting) রাখেন। 

Short time ID deactivation, Enabling the setting of 'Break' for every 15 minutes, Enabling the setting of Sleeping Time, Checking Regular Screen Time, Minimizing Posting, Commenting, Reacting or other Activities, Disabling the Counting of Reaction, Checking regular statistics on social media activities -সহ এরকম অনেক উপায়ে আপনি 'ডোপানিন রোজা' রাখতে পারেন। 

এছাড়া মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য বর্তমানে অনেক ধরণের ফোকাসিং মোবাইল অ্যাপ পাওয়া যায়। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।

Share:

Tuesday, September 6, 2022

যে পাপীর মাংস আমার টুকরো টুকরো করার ইচ্ছা

এখন শুধুমাত্র তাহার মস্তক খানা কর্তন বাকী। গ্রীবা হইতে চরণ অব্দি বক্ষ, উদর, হস্ত, হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, কলিজা সহ দেহের প্রতিটা অঙ্গানুই একটা একটা করিয়া কর্তন সম্পন্ন হইলো। ইদে পশু জবেহ করিবার সেই ধাঁরালো ছুরিখানা দিয়াই এই ভয়ানক - দূঃসাহসিক কান্ড খানা ঘটিয়া ফেলিলো মাত্র ২২ বৎসরের এক তরুন বালক!

অতঃপর? 

মানুষটার টুকরো টুকরো কর্তিত অঙ্গানুগুলির রক্তের প্রবাহ বহিতেছে মৃত্তিকা জুড়ে; আর সেখান হইতে বালকটা স্ব-হস্ত দ্বারা খানিকটা রক্ত তুলিয়া ঐ অবশিষ্ট মস্তকখানির মুখগহব্বরে ঢালিয়া দিলো। আর ক্রোধান্বিত চক্ষু নিয়া সশব্দে কহিতে লাগিলো - 

"তোর এই নষ্ট মুখ খানা দিয়া অগণিত নীরিহ মানবকে কতই না করিয়াছো গালমন্দ; ইহা আমি আর হইতে দিবো না। অর্থের তীব্র লোভে মনুষ্যত্ব ভুলিয়া মুখের নোংরা ব্যবহার প্রদর্শন করিয়া, যে রক্ত-মাংস গড়িয়াছিলি, এখন সেই নিজের রক্ত নিজেই খা।"

এইবারে, বালকটা একখানা গর্ত করিয়া লেলিহান আগুনের মধ্যে উনার দেহের সবগুলি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একটা একটা করিয়া ফেলিতে লাগিলো; আর মনের গহীনে তীব্র প্রতিশোধের আগুনকে কিঞ্চিৎ শান্ত করিবার চেষ্টা করিলো। এখন শুধু অবশিষ্ট রহিয়াছে মস্তকখানি আগুনে ফেলিবার। 

এরই মধ্যে এক পথচারীর নিকট বালকের এই ভয়ানক কর্মকাণ্ড দৃষ্টিগোচর হইলো। তৎক্ষণাৎ তিনি ঘটনাস্থলে আসিয়া নির্বাক বিস্ময়ে তরুণ-কে এই নির্মম কর্ম ঘটানোর হেতু জিজ্ঞাসা করিলেন। 

- "হে বালক, কী ত্রুটি ছিলো উনার? উনি কি কাহারো প্রাণনাশ করিয়াছে?"

- "না।"

- "তাহলে উনি কি কাউকে ধর্ষণ করিয়াছে?"

- "না।"

"তাহলে কেন তুমি এই নির্মম কর্মখানা করিতেছো?"

তরুণ বালক মাত্র কয়েকখানা বাক্যে সংক্ষেপে উত্তর সমাপ্তি করিবার চেষ্টা করিলো।

কহিলো, 

"আপনার জিজ্ঞাসিত উপরোক্ত কোনো অন্যায়কারীর বিরুদ্ধেই আমি এত্তবড় প্রতিশোধের স্বাদ নিতাম না। উনার অন্যায়টা চলমান সমাজ ব্যবস্থায় আপনাদের নিকট স্বাভাবিক বোধ হইলেও, নীরিহদের উপর ইহার নির্মম প্রভাব আমি প্রত্যক্ষরুপে অনুভব করিতে পেরেছি।"

- "তো, বলো হে বালক, উনার অন্যায় খানা কী?"

- "আচ্ছা, বলিতেছি। উনার গুরুতর ৩ খানা অন্যায় ছিলো। যাহার প্রধাণ উৎস ছিলো 'সুদ'।"

১. "উনি ব্যক্তি সুদের ব্যবসা করিতেন।"

২. "সুদের দ্বারা তিল তিল করিয়া আসলের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরও আসল এর দাবি ছাড়িতেন না। বরং নীরিহ'র স্ব-পরিবারকে ভয়ানক বিপদে ফেলিবার নানা ষড়যন্ত্র রচনা করিতেন।"

৩. "ইনি শুধুমাত্র অর্থের স্বার্থে মানবকে যেকোনো ধরণের মিথ্যা অপবাদ প্রদানে কিঞ্চিৎ দ্বিধা করিতেন না।"

তরুন বালক দ্রুত উত্তর সমাপ্তি করিয়া আবারও উক্ত কর্মকাণ্ড আরম্ভ করিয়া দিলো। কারন এখন অবশিষ্ট কর্তিত মস্তকখানি আগুনে ফেলিতে হইবে...

ইতোমধ্যেই, হঠাৎ করিয়া বালকটির কর্ণে ভাসিয়া উঠিলো, "এই ছেলে, তাড়াতাড়ি উঠ, এতো ঘুমাও কেন? তুই নাকি আজ কোথায় যাবি?!"

চক্ষু খুলিয়া অতঃপর বালকটার বোধগম্য হইলো, এতক্ষণ ধরিয়া তাহার ভয়ানক কর্মকান্ডটি নিদ্রারত স্বপ্ন বৈকি আর কিছুই ছিলো না। কিন্তু বালকটা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে হতাশার তীব্র নিঃশ্বাস ফেলিয়া কহিতে লাগিলো-

"আহ! কেন ইহা বাস্তব না হইয়া স্বপ্ন হইলো? শুধুমাত্র আমার ধর্মগ্রন্থে যদি এইরুপ প্রতিশোধ নেয়ার বিধান থাকিতো, তাহলে আমি যেকোনো মূল্যে পশুতুল্য উক্ত অমানবদের শাস্তি প্রদানে এই নির্মম পেশাটি-ই বাছিয়া নিতাম। তাহাতে আমি কাউকেই পরোয়া করিতাম না।"

পরিশেষে তরুণ বালক কোনো উপায়ন্তর না পাইয়া তাহার সৃষ্টিকর্তার আদালতেই এই বিচার সমর্পণ করিলো...

Share:

Monday, July 18, 2022

অন্যায়ের প্রতিবাদে সবার আগে Ice Breaking কেন জরুরি?

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রেলওয়ে দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থী Mohiuddin Roni ভাই যে সাহসী আন্দোলনের শুরুটা করেছেন সেটিকে বলে 'Ice Breaking'.

যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই 'আইস ব্রেক' করাটাই সবচেয়ে কঠিন। যে গুন বা সাহস হাজারে মাত্র কয়েকজনের মধ্যে থাকে। কেউ একবার এই 'আইস ব্রেক' অর্থাৎ একটুখানি বরফ গলিয়ে ফেলতে পারলেই পরবর্তীতে সাগর পরিমাণ বরফ গলানোর মতো মানুষেরও অভাব থাকে না। দেখবেন, লোকাল বাসে হেল্পার বা ড্রাইভারের ঘাড়ত্যাড়ামির বিরুদ্ধে শুরুতে শুধুমাত্র একজন চেঁচিয়ে উঠে। পরে দেখা যায় পিছনের সিটে বসা ছোট বাচ্চাটাও কিছু না কিছু বলার চেষ্টা করে।

আর, আমার মনে হয়, বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্ণীতি নির্মূলে এরকম দু'য়েকজন Ice Breaker খুবই দরকার; যে কাজ হয়তো অনেক সময় ডাক্তার / ইঞ্জিনিয়ার / সরকারি আমলা বা উচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষাবিদ দিয়েও সম্ভব হয় না।

ইন্ট্রোভার্ট-রা যে সহজে কারও সাথে মিশুক হতে পারে না, সেটার কারনও এই 'আইস ব্রেক' করতে না পারা। যেটি নিয়ে অনেকদিন আগে একবার লিখছিলাম। Link of that Post

Share:

Saturday, July 16, 2022

ঝগড়া বাঁধার পিছনে যে লজিক্যাল ফ্যালাসি কাজ করে

সেদিন একটি লঞ্চের ডেক এ করে আসছিলাম। পাশেই ১৮-২০ বছরের এক ছেলে শুয়ে শুয়ে মোবাইলে উচ্চস্বরে গান শুনতেছিলো। অন্যদের ঘুমে সমস্যা হয় বলে এক লোক তাকে গান বন্ধ করতে অনুরোধ করেছিলো। কিন্তু ছেলেটি বলে উঠলো- "লঞ্চের ইঞ্জিন আর স্লিং ফ্যান থেকেই তো প্রচুর শব্দ হচ্ছে; সেটায় সমস্যা হয় না? তাহলে আমি মোবাইল চালালে কী দোষ?"

দৈনন্দিন কথাবার্তায় আমরা অনেকেই নিজের দোষ স্বীকার না করে এভাবে পাল্টা যুক্তি দিয়ে থাকি। এগুলোকে বলে 'Logical Fallacy' (যুক্তির ভ্রান্তি)। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরণের লজিক্যাল ফ্যালাসি বিদ্যমান। উপরোক্ত ঘটনাটি 'Tu Quoque' বা 'Appeal to Hipocrisy' নামক লজিক্যাল ফ্যালাসির অন্তর্ভুক্ত।

'লজিক্যাল ফ্যালাসি' সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Chamok Hasan এর 'যুক্তিফাঁদে ফড়িং' নামক বইটি পড়তে পারেন।

Share:

Sunday, July 10, 2022

যে কারনে বেশিরভাগ মানুষই সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে না

একজন চা দোকানদার মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর কার্যকলাপ নিয়ে চিন্তিত ও সমালোচনায় লিপ্ত; অথচ তার চা এর মান কিভাবে আর একটু ভালো করা যায় সে ব্যাপারে তার কোনো মাথাব্যথাই নেই!

ঐ দোকানদার কয়েক হাজার ঘন্টার টকশো করতে থাকলেও প্রেসিডেন্টের আচরণের এক চুল পরিমাণও পরিবর্তন হবে না। এরকম যেসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে থাকে সেগুলোকে বলে Circle of Concern.

আর, ঐ দোকানদার চা এর মানোন্নয়নের জন্য মাত্র কয়েক ঘন্টা চিন্তাভাবনা করলে কিছুটা হলেও তার ব্যবসার উন্নতি হবে। এরকম যেসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সেগুলোকে বলে Circle of Influence. 

উপরের ঘটনা একটা নমুনাস্বরূপ উদাহরণ মাত্র। বর্তমানে আমরা বেশিরভাগ মানুষই Circle of Concern নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে Circle of Influence এ নিজের অবদান থাকে প্রায় শূন্য। যার ফলস্বরূপ সর্বত্র শুধুমাত্র সমালোচনা আর গালাগালি-ই চলতে থাকে, উপযুক্ত কোনো সমাধানের দেখা মিলে না। অথচ, Circle of Influence এ যত বেশি সতর্ক হওয়া যাবে, নিজেকে ততোই সত্যিকারের Circle of Concern এর পরিবর্তক বানানো যাবে।

To know in detail you can read the book: 

"The Seven Habits of Highly Effective People"

Share:

Thursday, July 7, 2022

কুরবানীর গরু কি Veblen Goods হওয়ার কারনে এর অতিরিক্ত দাম হয়?

ঈদ এলেই বাজারের সেরা গরু গুলোর দাম শুনলে মনে হয় যেন ওদের পেটের মধ্যে একেকটা ৩ তলা বিলাসবহুল ভবন তৈরি করা আছে; নয়তো ওদের চামড়া ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে বাঁধানো। কিছু কিছু গরুর দাম ৩৫ লাখ, ৫০ লাখ। শুনেছি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটির মতো গরুও নাকি বাজারে উঠে!

কিন্তু কেন? 

যে গরুর দাম ৫০ লাখ, এর মধ্যে কি আসলেই  ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মাংস আছে? (কারন গড়ে একটা গরু থেকে এর দামের ৬২.৫% টাকার মাংস হওয়া উচিত।)

১ কেজি মাংসের দাম যদি ১ হাজার টাকাও ধরি তাহলে ৫০ লাখ টাকার একটি গরুতে ৩ হাজার ১২৫ কেজি মাংস হওয়া উচিত ছিলো। অথচ একটা গরু থেকে কি এত মাংস কোনো মতেই পাওয়া সম্ভব?

তাহলে গরুর এত দাম হওয়ার পিছনে কারনটা কী?

মূলত, অর্থনীতির ভাষায় Veblen Goods নামে একটা কথা আছে। Veblen Goods হচ্ছে এক ধরণের বিলাসবহুল পণ্য। এসব পণ্যের দাম যত বৃদ্ধি পায়, ক্রেতাদের কাছে তার চাহিদা ততো পরিমাণে বাড়তে থাকে। যেমনঃ স্বর্ণালংকার, ব্রান্ডের ঘড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি, বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম, আইফোন ইত্যাদি। 

অভিজাত শ্রেণির মানুষরা নিজেদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্ট্যাটাস বৃদ্ধির জন্য এ ধরণের পণ্য ব্যবহার করে থাকে। বলা যায়, অভিজাতীয়রা এক ধরনের শো-অফ ও তুমুল আভিজাত্য প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেই অতিরিক্ত দাম দিয়ে Veblen Goods ব্যবহার করে থাকে। 

আমার মনে হচ্ছে, কুরবানীর গরুও বর্তমানে Vablen Goods হতে চলছে..! আল্লাহকে কি Veblen Goods দিয়ে সন্তুষ্ট করা যাবে? নাকি টাকাগুলো শুধুমাত্র আভিজাত্য প্রদর্শণের খাতেই যাবে..?!

Share:

Thursday, June 23, 2022

এখানেও সমকামিতার গন্ধ ছড়ানোর চেষ্টা!


বিষয়টি কারও কারও কাছে তুচ্ছ মনে হলেও আমাকে অনেকটা ভাবিয়েছে!

আমার এক ছাত্রীর ৬-৭ বছরের ছোট একটা বোন আছে। ছাত্রীকে পড়ানোর সময় ওর বোন প্রায়ই আমাদের পাশে বসে নানান ধরণের চিত্রাঙ্কন করতে পছন্দ করে। ওর মধ্যে ছবি আঁকার একটা ন্যাচারাল ক্যারিজমা অনেক দিন ধরেই খেয়াল করেছি। তাই আমিও মাঝেমধ্যে ক্রিয়েটিভ কিছু আঁকতে উৎসাহিত করতাম।

একদিন ছাত্রীকে পড়াচ্ছি; হঠাৎ খেয়াল করলাম ওর বোন বৃত্তাকার ও পতাকার মতো কিছু একটা আঁকার চেষ্টা করছে। নিচের প্রথম ছবিতে ডান পাশে বৃত্তাকার যে ছোট বস্তুটি দেখছেন- এটি ওর জামার একটি বোতাম। বোতামটি ছিড়ে যাওয়ায় এটির-ই প্রতিরুপ আঁকার চেষ্টা করছে।

কিন্তু আপনি জানেন কি? এটি কিসের লোগো? বা প্রতিক? বা পতাকা?

আমি প্রায় নিশ্চিত যে- এটি LGBT বা সমকামী গোষ্ঠীর লোগো। নিচের ২য় ছবিতে LGBT দের পতাকা আছে।

যারা LGBT সম্পর্কে জানেন না-

LGBT হচ্ছে Lesbian, Gay, Bisexual, ও Transgender দের একটি বিশ্বব্যাপী গোষ্ঠী বা সংগঠন। এক কথায় বলতে গেলে, তারা ছেলেদের সাথে ছেলেদের বা মেয়েদের সাথে মেয়েদের শারীরিক সম্পর্ক বা বিয়েকে প্রমোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সমগ্র বিশ্বে সমকামীতা ছড়ানোর জন্য তারা নীরব ও পরিকল্পিত আন্দোলন করে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশে এখনও এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ অবস্থায় আছে।

অনেকে আবার বলতে পারেন- বোতামটিতে Rainbow বা রংধনু'র প্রতিক অঙ্কন করা। কিন্তু রংধনুতে তো ৭ টি ভিন্ন ধরণের রঙ থাকার কথা। অথচ এখানে ৬টা। আর LGBT প্রতিকেও ৬টি -ই কালার। তাহলে এই লোগো LGBT ছাড়া আর কী হতে পারে?

আমার কথা হচ্ছে- ছোট ও নিষ্পাপ একটা বাচ্চার পোশাকে কেন এই লোগোটি জড়িয়ে দেয়া হলো? আমি জানি না, তারা এটা অনিচ্ছাকৃতভাবে করেছে? নাকি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?  

তবে যদি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র-ই হয়ে থাকে, তাহলে আমি বলবো- আমাদের নতুন প্রজন্মদের জন্য আসলেই এক ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে। হয়তো শিশুটি এই মুহুর্তে লোগোটির কিছুই বুঝতেছে না, তবে ওর মস্তিষ্কে এই চিত্রটি খুব ভালোভাবেই রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে যখন কোথাও এই লোগো দেখতে পাবে তখনই কৌতূহল বশত এটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার আগ্রহ দেখাতে পারে। বড় ধরণের ষড়যন্ত্র গুলোর প্রমোশন এভাবেই সুপরিকল্পিত সিস্টেমে হয়ে থাকে।

তবে আমি চাই, এটি যেন অনিচ্ছাকৃত কাজই হয়। অন্তত আমার দেশ 'বাংলাদেশ'টা আর অশালীন না হোক। কিন্তু তারা এটা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেভাবেই করুক, আমাদেরকে সচেতন হওয়া উচিত। LGBT দের নিষ্ঠুরতম এই প্রচেষ্টাকে কোনোভাবেই বাংলাদেশে চালু হতে দেয়া উচিত না।

কেউ বলতে পারেন, আমি নিজেই তো LGBT প্রমোট করলাম। তবে আমি বলবো, আমার উদ্দেশ্য ইতিবাচক ছিলো। আপনি এটি নেতিবাচক ভাবে নিলে ফলাফলও সেভাবেই হবে। অন্যায়ের দৃষ্টান্ত প্রচার করার মানেই অন্যায় প্রমোট করা নয়, নিজেকে সেসব অন্যায়ের কালো থাবা থেকে মুক্ত রাখার উপায় খুঁজে বের করাটাই মূখ্য উদ্দেশ্য।

Share: