Showing posts with label Finding Happiness. Show all posts
Showing posts with label Finding Happiness. Show all posts

Friday, December 16, 2022

সুখী হতে Spiritual Need কেন জরুরি?

এই মুহুর্তে আপনি যা করতেছেন শুধু তা-ই নয়; মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যা কিছু করে সব-ই শুধুমাত্র কয়েক ধরণের প্রয়োজন (Need) মেটাতে করে থাকে। যেমন, আপনি এখন ফেসবুক ব্যবহার করতেছেন আপনার মধ্যে থাকা 'বিনোদন' নামক Need এর কিছুটা ঘাটতি পূরণে। যা 'Mental Need' এর অন্তর্ভুক্ত।

এরকম আমাদের জীবনে প্রায় সব ধরণের প্রয়োজনকে মোটামোটি নিচের ক্যাটেগরি গুলোতে ভাগ করা যায়ঃ

1. Physical Need

2. Mental Need 

3. Spiritual Need

Physical Need হচ্ছে গাড়ি, বাড়ি, সম্পদ, খাদ্য, বস্ত্র, অর্থবিত্ত ইত্যাদি। Mental Need হচ্ছে আমাদের ওইসব কার্যক্রম - যেগুলো আমাদের মনে ভালোলাগা, ভালোবাসা, আনন্দ, উপলব্ধির সঞ্চারণ ঘটায়।  

আর Spiritual Need হচ্ছে এমন একটা Need যার মূল্য অন্য সকল Need এর উপরে। শুধুমাত্র এই Need থেকে যে Satisfaction আসে সেটা অন্য সকল Need থেকে বেশি এবং একমাত্র এটার প্রভাব-ই মানুষের মৃত্যুর পরেও স্থায়ী থাকে। আর কারও এই Need এর চাহিদা পূরণ না হলে তার মধ্যে কখনোই (দীর্ঘস্থায়ী) সুখী মানুষের পূর্ণতা আসে না। Spiritual Need এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য বা ধর্মীয় বিধিমালা। এছাড়া মানবকল্যানে স্বার্থহীন কোনো কাজ করাও এই Need এর অন্তর্ভুক্ত। 

বর্তমান সমাজে বেশিরভাগ মানুষ-ই শুধুমাত্র Physical Need পূরণে প্রায় সমগ্র জীবন কাঁটিয়ে দেয়। শুধু এই একটি মাত্র Need পূরণের স্বার্থে নানান অনৈতিক কাজে যুক্ত হয়ে নিজের স্বচ্ছ ব্যক্তিস্বত্তা-কে নষ্ট করে ফেলে।

এ কারনে, Physical Need অর্থাৎ অর্থবিত্ত-সম্পদে অপরিসীম প্রাচুর্যতা থাকা স্বত্তেও মনের ভিতর Satisfaction বা Happiness ধরা দেয় না; অথবা স্থায়ী থাকে না। 

থাকবেই বা কেন? Human Being যে Need পূরণে সবচেয়ে বেশি সুখী হয় সেগুলো বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও এদিকে ফিরেই তাকানো হয় না! Physical / Materialistic Need পূরণ করতে করতেই ইহধাম ত্যাগের ঘন্টা বেজে যায়...!

Share:

Saturday, September 10, 2022

সুখ পরিমাপের স্কেল ও সুখী হওয়ার আফ্রিকান পদ্ধতি

'Ubuntu' is going to die..!

একজন মানুষ এই মুহুর্তে ঠিক কতটুকু হ্যাপি, সেটা পরিমাপ করার কোনো যন্ত্র বা স্কেল এখনও (সম্ভবত) আবিষ্কৃত হয়নি। যেমন, আমরা সবাই-ই বলি, আমি একজন সুখী বা অনেক সুখী বা হাজার গুণে সুখী মানুষ। কিন্তু এই 'অনেক' বলতে ঠিক কতটুকু সুখী সেটা কিন্তু সঠিকভাবে কেউ বলতে পারি না।

আপনিও বললেন "অনেক হ্যাপি", আর আমিও বললাম "অনেক হ্যাপি"। তাহলে যদি জিজ্ঞাসা করি, আপনার আর আমার মধ্যে তুলনামূলক কে বেশি হ্যাপি? এটার সঠিক উত্তর কিন্তু অসম্ভব। 

যেমনটা আমরা বলতে পারি, আমাদের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট; যা নির্দিষ্ট। কিন্তু হ্যাপিনেস পরিমাপের জন্য সেরকম কোনো স্কেল এখনও নেই। 

ধরুণ, 'Happiness Measuring Scale' নামে সেরকম একটি স্কেল বের হলো। যার সর্বোচ্চ মাত্রা ১০০ ডিগ্রি একক। যেমন, আমি এখন ঠিক কতটুকু হ্যাপি সেটা একটা ডিভাইস দিয়ে বুঝতে পারলাম যে ২০° একক বা ৫০° একক বা ৮০° একক হ্যাপি, ইত্যাদি।

এখন, আমি ২ ধরণের মানুষ সম্পর্কে ধারণা দিবো। 

Type-1: এই ধরণের মানুষ শুধুমাত্র নিজেকে এবং নিজের স্ত্রী-সন্তানদের স্বার্থে যেকোনো কাজ করতে অভ্যস্ত। অর্থাৎ তার পরিবারের সদস্যরা ভালো থাকলেই তিনি হ্যাপি থাকেন। আশেপাশের অন্য আত্মীয় বা অন্য মানুষের কষ্ট-ক্লেশে তার কোনো অনুভূতি জাগ্রত হয় না। তার কাছে ১০০ টাকা থাকলে সম্পূর্ণটা এই সদস্যদের জন্য ব্যয় করেই হ্যাপি থাকেন। 

Type-2: এই ধরণের মানুষ নিজের পরিবার ছাড়াও আশেপাশের আত্মীয় বা অনাত্মীয় বা প্রতিবেশি, সকলকে নিয়ে ভালো থাকতে পছন্দ করেন। অর্থাৎ তার কাছে ১০০ টাকা থাকলে আশেপাশের ২০ জনকে ৫ টাকা করে দিয়ে হলেও হ্যাপি থাকেন। 

এখন, এই দুই প্রকৃতির মানুষকে যদি ঐ Happiness Scale দিয়ে পরিমাপ করি, তাহলে কার হ্যাপিনেস কত ডিগ্রি হবে বলে আপনার মনে হয়?

Type-1 এর হ্যাপিনেস এসেছে শুধুমাত্র ৩-৪ জন মানুষের হ্যাপিনেস থেকে। অন্যদিকে Type-2 এর হ্যাপিনেস এসেছে ২০ জন মানুষের হ্যাপিনেসের সমষ্টি থেকে। ২০ টা মানুষ Happiness Scale অনুসারে ন্যূনতম ৪ ডিগ্রি করে হ্যাপি হলেও সব মিলিয়ে ৮০ ডিগ্রি হ্যাপিনেস হয়ে যায়। অন্যদিকে Type-1 এর হ্যাপিনেস সব মিলিয়ে ৫০ ডিগ্রির উপরে ওঠার কথা না। 

অথচ, Type-1 এর মানুষ এটাই ভাবে যে, তারা মনে হয় সবচেয়ে হ্যাপি। কারন সে স্বজনপ্রীতিতে সফল। 

কিন্তু এর চেয়েও যে অনেক গুণে বেশি হ্যাপি হওয়া সম্ভব সেটা তারা হয়তো অনুভব-ই করতে পারেনি। করবেই বা কিভাবে? Happiness Scale নামক কোনো স্কেলের অস্তিত্ব তো নেই!

তবে এই স্কেল না থাকা সত্বেও কিছু মানুষ কিন্তু ঠিক-ই এই হাইব্রিড হ্যাপিনেস এর ফরমুলাটা বুঝে নিয়েছে। তাই-ই তো এ যুগেও স্বল্প কিছু মহানুভবের দেখা মিলে।

আফ্রিকায় প্রাচীণ একটি শব্দ হচ্ছে উবুন্তু (Ubuntu); যার অর্থ হলো, "I am, because we are". অর্থাৎ "আমি আছি, কারন আমরা সবাই আছি"।

নিগ্রো আফ্রিকানদের আমরা অশিক্ষিত বা যাযাবর মনে করলেও তারা কিন্তু ঠিক-ই এই Ubuntu এর মূল্য অনেক আগেই বুঝে গিয়েছে এবং শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ সবাই সর্বদা এ রীতি মেনে চলার চেষ্টা করে। 

কিন্তু বাংলাদেশে এই Ubuntu -র অস্তিত্ব কতটুকু যে আছে, তাতে আমি সন্দিহান। এজন্যই হয়তো এ দেশে ধনী-গরীব এতো বৈষম্য..!

Share:

Saturday, June 25, 2022

সুখী থাকতে Plain Living & High Thinking কেন জরুরি?

পদ্মা সেতুর প্রখ্যাত একজন প্রকৌশলী ও প্রধান পরামর্শক মরহুম ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের একটা সাক্ষাৎকার দেখতেছিলাম। তিনি কোনো এক কথা প্রসঙ্গে একটি লাইন বলেছিলেন- 

"Plain living and high thinking are no more"  

পরে জানতে পারলাম, লাইনটি আজ থেকে ২২০ বছর আগে বিখ্যাত ইংলিশ কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর একটি কবিতার মধ্যে বলেছিলেন; যার প্রতিফলন এখনও সুস্পষ্টরুপে বহমান। 

Plain Living বলতে বোঝায়- জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যেকোনো ধরণের কাজে একটা নির্দিষ্ট / পরিমিত পরিমান চাওয়াকে বেছে নিতে হবে। যখন চাওয়ার পরিমাণে কোনো লিমিটেশন থাকে না, তখন কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না; বরং তা প্রচুর অশান্তির কারন হতে পারে। অর্থাৎ একটি সাধারণ জীবনযাপনের জন্য কোনোকিছু যতটুকু হলে প্রয়োজনটা ভালোভাবে মিটে যায় ঠিক ততোটুকুই চাওয়া উচিত।

আর এখানে High Thinking বলতে বোঝায়, অতি সাধারণ জীবন-যাপনের সাথে উচ্চ ও উন্নত চিন্তাভাবনার সমৃদ্ধি ঘটানো। 

এই দুটো জিনিসের কম্বিনেশন করতে পারলেই একটি Happy Life গঠন করা সম্ভব। যা আমাদের মাত্র কয়েক বছরের এই সংক্ষিপ্ত জীবনের জন্য খুবই জরুরী।

মহাত্মা গান্ধী ভালো ভাবেই এই লাইনটি অনুসরণ করতেন। আর হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর পুরো জীবনটাই তো ছিলো সেরকম!

কিন্তু, আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই ঝোঁক থাকে অপরিসীম বিলাসী জীবনযাপনের প্রতি (যত পাই, আরও চাই, এরপরও চাই) এবং চিন্তাভাবনার মান ক্রমেই নিম্নবর্গীতায় রুপান্তরিত হতে থাকে। বিষাক্ত সোস্যাল মিডিয়া, প্রতিহিংসা মূলক রাজনীতি, দূর্ণীতিযুক্ত পেশা এজন্য অনেকাংশে দায়ী।

উলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ১৮০২ সালে হয়তো এজন্যই আফসোস করে বলেছিলেন, Plain living ও High Thinking আর নেই। ২২০ বছর পরে এখনও আমাদের সেই কথাই বলতে হচ্ছে। হয়তো এখন থেকে ২২০ বছর পরেও একই কথাই বলতে হবে..!

Share: