Friday, March 11, 2022

পারমানবিক আকার থেকে যত উপায়ে সৃজনশীল প্রশ্ন হতে পারে | পর্যায় সারণি | রসায়ন | ৪র্থ অধ্যায় | ৯ম-১০ম শ্রেণি
পারমানবিক আকার কী?

পারমানবিক আকার হচ্ছে মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্মগুলোর মধ্যে একটি। 

পরমানুর নিউক্লিয়াস থেকে এর যোজ্যতা স্তর বা সর্বশেষ শক্তিস্তর পর্যন্ত দূরত্বকে পারমানবিক আকার বা পারমানবিক ব্যাসার্ধ বলে। 


পারমানবিক আকার এর পর্যায়বৃত্ত ধর্ম কেমন?

একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে পারমানবিক আকার হ্রাস পায় এবং একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে গেলে বৃদ্ধি পায়। 

কারণঃ

আমরা জানি, পরমানুর নিউক্লিয়াসকে এর বাহিরের শক্তিস্তরের ইলেকট্রনগুলো আকর্ষন করতে থাকে। ইলেকট্রন সংখ্যা যত বেশি হয়, আকর্ষন শক্তি তত বেশি হয়। আর আকর্ষন যত বেশি হয় ইলেকট্রনগুলো ততোই নিয়ক্লিয়াসের দিকে ঝুঁকে যেতে থাকে। অর্থাৎ পরমানুর আকার ছোট হতে থাকে। 

পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে যাওয়ার সাথে সাথে বাহিরের শক্তিস্তরে একটি করে পারমানবিক সংখ্যা বাড়তে থাকে। তার মানে একটি করে ইলেকট্রন বাড়তে থাকে। ফলে নিউক্লিয়াসের সাথে আকর্ষন শক্তিও বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর পরমানুর আকার ছোট হতে থাকে। 

আবার, একই গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে যাওয়ার সাথে সাথে একটি করে নতুন শক্তিস্তর বাড়তে থাকে। ফলে নিউক্লিয়াসের সাথে ইলেকট্রনের দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং আকর্ষন শক্তি কমতে থাকে। আর আকর্ষন কমতে থাকলে ইলেকট্রন গুলো আর নিউক্লিয়াসের দিকে ঝুঁকে যায় না, বরং দূরে সরে যায়। ফলশ্রুতে ক্রমান্বয়ে পরমানুর আকার হ্রাস পায়। 

তাই, একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে পারমানবিক আকার হ্রাস পায় এবং একই গ্রুপের উপর থেকে নিচে গেলে পারমানবিক আকার বৃদ্ধি পায়। 


যেভাবে প্রশ্ন আসতে পারেঃ

(এখানে, পারমানবিক আকারের জন্য একটি নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর দেখানো হলো। এভাবে পারমানবিক আকার থেকে আরও প্রশ্ন হতে পারে। সেগুলোর উত্তরও এই প্রশ্নটির উত্তরের মতো লিখবে।)


প্রশ্নঃ A, B, C ও D মৌলের পারমানবিক আকারের ক্রম বিশ্লেষণ কর। 
(A, B, C ও D প্রচলিত অর্থে কোনো মৌল নয়।)

উত্তরঃ 
(যেকোনো প্রশ্নের শুরুতে এই কথাটি লিখবে। অর্থাৎ প্রশ্নে যা বলবে সেটা নিচে ব্যাখ্যা / আলোচনা করা হলো।)
উদ্দীপকের চিত্রের A, B, C ও D মৌল চারটি যথাক্রমে সালফার (S), ফসফরাস (P), পটাসিয়াম (K) ও ফ্লোরিন (F)। নিম্নে মৌল চারটির পারমানবিক আকারের ক্রম ব্যাখ্যা করা হলো। 

(যে টপিক নিয়ে আলোচনা করতে বলবে সেটার সংজ্ঞা দিবে।)
আমরা জানি, পরমানুর নিউক্লিয়াস থেকে সর্বশেষ শক্তিস্তর পর্যন্ত দূরত্বকে পারমানবিক আকার বা পারমানবিক ব্যাসার্ধ বলে। আর, একই পর্যায়ে বাম থেকে ডান দিকে গেলে পারমানবিক আকার হ্রাস পায়।

(আলোচনার মূল বিষয়টি সম্পর্কে কিছু কথা লিখবে (কারন / সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা)। তবে এখানে উদ্দীপকের উদাহরণগুলো আনার প্রয়োজন নেই।)

কারন, আমরা জানি, পরমানুর নিউক্লিয়াসকে এর বাহিরের শক্তিস্তরের ইলেকট্রনগুলো আকর্ষন করতে থাকে। ইলেকট্রন সংখ্যা যত বেশি হয়, আকর্ষন শক্তি তত বেশি হয়। আর আকর্ষন যত বেশি হয় ইলেকট্রনগুলো ততোই নিয়ক্লিয়াসের দিকে ঝুঁকে যেতে থাকে। অর্থাৎ পরমানুর আকার ছোট হতে থাকে। 

আবার, পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে যাওয়ার সাথে সাথে বাহিরের শক্তিস্তরে একটি করে পারমানবিক সংখ্যা বাড়তে থাকে। তার মানে একটি করে ইলেকট্রন বাড়তে থাকে। ফলে নিউক্লিয়াসের সাথে আকর্ষন শক্তিও বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর পরমানুর আকার ছোট হতে থাকে।

(এবারে উদ্দীপকের উদাহরণ ও উপরের আলোচনার সাথে মিল রেখে কিছু কথা লিখবে।)

উদ্দীপকের ৪টি মৌলের মধ্যে পটাসিয়াম (K) পর্যায়ের ক্ষেত্রে সর্ববামে এবং গ্রুপের ক্ষেত্রে সবার নিচে হওয়ার কারনে এটির আকার সবচেয়ে বড়। 

আবার ফসফরাস () ও সালফার এর ক্ষেত্রে ফসফরাস বামে ও সালফার ডানে অবস্থিত। তাই ফসফরাস এর চেয়ে সালফারের আকার ছোট। P > S

ফ্লোরিন সর্বডানে এবং সবার উপরে হওয়ার কারনে এর আকার সবচেয়ে ছোট। 

(সকল আলোচনার পরে মূল ফলাফল এখানে লিখবে।)

সুতরাং মৌল চারটির পারমানবিক আকারের ক্রম হবেঃ

K > P > S > F 

(পরিশেষে প্রশ্নের কথাটাই আবার নিচের মতো করে লিখবে।)

অতএব, উপরোক্ত আলোচনাই হচ্ছে A, B, C, D অর্থাৎ S, F, P, F এর পারমানবিক আকারের ক্রম ব্যাখ্যা। 

Share: